আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-দ. কোরিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিন চুক্তি ‘আক্রমণাত্মক’: কিম

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে হওয়া নতুন পারমাণবিক সাবমেরিন চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম অনুযায়ী, নিজের দেশের পারমাণবিক সাবমেরিন নির্মাণের অগ্রগতি পরিদর্শনকালে কিম এই চুক্তিকে কোরীয় উপদ্বীপের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ’র তথ্যানুসারে, কিম বলেছেন, “সিউল ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার এই চুক্তি একটি ‘আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ’, যা পিয়ংইয়ংয়ের নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক সার্বভৌমত্বকে মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করে।” তার মতে, “এটি নিরাপত্তার জন্য এমন এক হুমকি যা অবশ্যই মোকাবিলা করতে হবে।”

কিম আরো জানান, উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীর ‘আধুনিকীকরণ এবং পারমাণবিক অস্ত্রের আমূল উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।’

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) পিয়ংইয়ংয়ের একটি সাবমেরিন নির্মাণ প্রকল্প পরিদর্শনকালে কিম এসব মন্তব্য করেন, যেখানে একটি ‘৮ হাজার ৭০০ টন ওজনের পারমাণবিক শক্তিচালিত কৌশলগত নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র সাবমেরিন’ নির্মাণের কাজ চলছে।

কেসিএনএ আরো জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার নেতা বুধবার জাপান সাগরে (যাকে পিয়ংইয়ং ‘কোরিয়ার পূর্ব সাগর’ বলে থাকে) একটি নতুন উচ্চতার দীর্ঘ পাল্লার বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণও তদারকি করেন। সংস্থাটির দাবি অনুযায়ী, পরীক্ষাটি সফল হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্রটি ২০০ কিলোমিটার উচ্চতায় একটি লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে।

এই ঘটনাগুলো এমন সময়ে ঘটল যখন দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে যে, সিউল পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন প্রযুক্তি অর্জনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ‘স্বতন্ত্র চুক্তির’ চেষ্টা চালাচ্ছে।

মার্কিন আইন অনুযায়ী, সামরিক কাজে পারমাণবিক উপাদান হস্তান্তর নিষিদ্ধ থাকলেও, দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উই সাং-লাক জানিয়েছেন, তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে বিশেষ ছাড় পেতে পারেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান।

উই বলেন, অস্ট্রেলিয়াও একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক সাবমেরিন নির্মাণের চুক্তি করেছিল। আগামী বছরের শুরুর দিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কিমকে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের নববর্ষের শুভেচ্ছা

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে নববর্ষের শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন এবং ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার অব্যাহত সামরিক সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তা করার জন্য উত্তর কোরিয়া ২০২৪ সাল থেকে হাজার হাজার সেনা পাঠিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার সেনারা রুশ বাহিনীর হয়ে ইউক্রেন এবং রাশিয়ার কিছু অংশে (যেখানে ইউক্রেনীয় বাহিনী পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছিল) লড়াই করছে।

কেসিএনএ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী পুতিন বলেন, “কুরস্ক অঞ্চলকে দখলদারমুক্ত করার লড়াইয়ে কোরীয় পিপলস আর্মির সৈন্যদের বীরত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ এবং রাশিয়ার মাটিতে কোরীয় প্রকৌশলীদের কর্মকাণ্ড রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে অজেয় বন্ধুত্ব ও সামরিক ভ্রাতৃত্বকে স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে।”

পুতিন ২০২৪ সালে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ চুক্তির সাফল্যের প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে ‘বন্ধুত্ব ও মৈত্রীর সম্পর্ক সবদিক দিয়ে আরো শক্তিশালী হবে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে গঠনমূলক সহযোগিতা বজায় থাকবে’।