আন্তর্জাতিক

ভারতে পর্যটনকেন্দ্রে উপচেপড়া ভিড়

ভারতজুড়ে প্রশাসনের কড়া নজরদারির মধ্যেই শান্তিপূর্ণভাবে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছেন মানুষ। আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর নিরাপত্তার মেলবন্ধনেই শুরু হলো ২০২৬। উৎসবের মেজাজে বছরের প্রথম দিনে ভিড় উপচে পড়েছে ভারতের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে।

কাশ্মীর, মানালি, দার্জিলিং থেকে গোয়া, দিঘার মতো টুরিস্ট স্পটগুলোতে ভিড় রীতিমতো চোখে পড়ার মতো। কলকাতার মন্দির গুলোতে চলছে বছরের প্রথম দিনের প্রার্থনা। কল্পতর উৎসব হিসেবে দর্শনার্থীদের বাড়তি উন্মাদনা। 

নতুন বছরের আগের দিন দিল্লি থেকে শুরু করে কলকাতায়ও ছিল তীব্র শীতের রাত। তবুও ঠান্ডা দমাতে পারেনি উৎসবের উন্মাদনা। সারারাত পিকনিক ও বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের পর নতুন বছরকে নানাভাবে পালন করেছে ভারতীয়রা। নতুন বছরের সকাল পূর্জা অর্চনার মাধ্যমে বরণ করে নিয়েছেন ভারতের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। 

কলকাতায় এই উপলক্ষে দক্ষিণেশ্বর, কালীঘাট মন্দির থেকে রাজ্যের দক্ষিণেশ্বর কালীঘাট তারাপীঠের পাশাপাশি ছোট বড় সব মন্দিরে ছিল অগণিত মানুষের ভিড়। অন্যদিকে কল্পতর উৎসব উপলক্ষে বেলুড় মঠ সহ রামকৃষ্ণ মিশনগুলোতে ছিল ভক্তদের ভিড়, প্রার্থনা। 

অন্যদিকে শহরের রাজপথে মানুষের ঢল নামে। বেলা যত গাড়িয়েছে ততই ভিড় বেড়েছে আলিপুর চিড়িয়াখানা, মিলেনিয়াম পার্ক, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, ভারতীয় জাদুঘর, বিড়লা তারামন্ডল, নিক্কো পার্ক, ইকো পার্ক, সায়েন্স সিটি, বেলুড় মঠ, শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন, নেচার পার্ক, গঙ্গার পাড় সহ কলকাতার দর্শনীয় স্থান ও পিকনিক স্পটগুলোতে। উৎসবমুখী কলকাতায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান নিয়ন্ত্রণ ও একমুখী ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ হেডকোয়ার্টার লালবাজার। 

দীঘা সমুদ্র সৈকত, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাধের শান্তিনিকেতনেও অনেক পর্যটক ভিড় জমিয়েছেন। 

বছরের প্রথম দিন আবার পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা দিবস। এ উপলক্ষে বর্ষবরণের দিনে দলটির নেতা কর্মীরা নানা উৎসব আয়োজনে পালন করছে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা দিবস। 

কলকাতার পাশাপাশি রাজধানী নতুন দিল্লির কনট প্লেস ও ইন্ডিয়া গেট সহ প্রধান জায়গাগুলোতে নতুন বছরের উদযাপন দেখা গেছে, যেখানে ২০২৬-কে স্বাগত জানাতে ভিড় জমেছে। দিল্লির গুরুগ্রাম ও নয়ডাতেও রেস্তোরাঁ, বাজার ও রাস্তায় উপচে পড়ে ভিড়। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বাড়তি পুলিশ  মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লির কনট প্লেস, ইন্ডিয়া গেট, বসন্ত বিহারের মতো এলাকায় বছর শেষের রাত থেকেই ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। পুলিশ সূত্রে খবর, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে একাধিক এসিপি ও অতিরিক্ত ডিসিপি সরেজমিনে নজরদারি চালান। পশ্চিম দিল্লি জেলাতেই প্রায় দেড় হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়ছে। 

পাঞ্জাবের অমৃতসরে, ঘড়ির কাঁটা মধ্যরাত ছোঁয়ার সাথে সাথে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে ভক্তরা শ্রী হরমন্দির সাহিবে প্রার্থনা করতে এবং আশীর্বাদ চাইতে ভিড় জমান।

হিমাচল প্রদেশের পাহাড়ি শহর ধর্মশালায়, কনকনে ঠান্ডা আবহাওয়া সত্ত্বেও উৎসবের আমেজকে দমাতে পারেনি এবং মানুষ নতুন বছর ২০২৬-কে স্বাগত জানিয়েছে।

একইভাবে, জম্মু ও কাশ্মীরের সোনামার্গে পর্যটকরা বরফে ঢাকা প্রাকৃতিক দৃশ্যের মাঝে আনন্দ উচ্ছ্বাসে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছে।

মুম্বাইয়ে, ঘড়ির কাঁটা মধ্যরাত ছোঁয়ার সাথে সাথে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ টার্মিনাসে মানুষ নতুন বছর ২০২৬-কে স্বাগত জানিয়ে উদযাপন করেছে।

বছরের প্রথম দিনে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটনা এড়াতে দেশজুড়েই নিরাপত্তা আঁটসাঁট করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।