ফটো ফিচার

প্রকৃতিতে শিল্পের বহুরূপ

প্রকৃতির রূপ-রঙে মুগ্ধতার শেষ নেই। চিত্র শিকারিরা এই রূপ খুঁজতে ছুটে যান দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তে। কখনো কখনো এমন সব দৃশ্য ফ্রেমবন্দি করেন, যা প্রকৃতিতে লুকিয়ে থাকা শিল্পের নানা রূপ ধরা দেয়। এসব চিত্র চোখের পাশাপাশি হৃদয়কে আন্দোলিত করে। ২০২৫ সালে বেশ কিছু ছবি ‘ন্যাচার্স বেস্ট ফটোগ্রাফি’ পুরস্কার লাভ করেছে। এমন কটি ছবি নিয়ে এই প্রতিবেদন—

 

আলস্কার লেক ক্লার্ক ন্যাশনাল পার্কের সমভূমি থেকে ছবিটি তোলা হয়েছে। সমভূমিতে একটি গ্রিজলি ভাল্লুক হেঁটে যাওয়ার পর এই চিত্র তৈরি হয়েছে। অন্যান্য বড় স্তন্যপায়ীর তুলনায়, গ্রিজলি ভাল্লুক পুরো পা ব্যবহার করে চলে। একটি গবেষণা অনুযায়ী, তাদের পেছনের পায়ে ইংরেজি ‘M’ আকৃতির চাপের প্যাটার্ন দেখা যায়। কারণ পেছনের পা সামনের পায়ের তুলনায় বেশি সোজা এবং অধিক শক্তি উৎপন্ন করে। দেখতে এই হাঁটা ধীর গতির মনে হতে পারে। কিন্তু এটি শক্তিশালী। শক্তি-দক্ষ গতিপথের নির্দেশক। ছবিটি তুলেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হেনরি এইচ. হোল্ডসওয়ার্থ।

 

 সোনালি ও কালো রঙের পাখনা মেলে বসে আছে একটি পোকা। প্রথম দেখায় এটিকে ফড়িং মনে হতে পারে। কিন্তু এটি ফড়িং নয়। এর ক্লাবযুক্ত অ্যান্টেনা ও পাখা বলছে—এটি অ্যাসকালাফিডে পরিবারের। এটি শিকারি পোকা, যা উষ্ণ অঞ্চলে এবং দক্ষিণ ইউরোপের কিছু অংশে পাওয়া যায়। এই পোকা তার চারপাশের সঙ্গে রং মিলিয়ে ছদ্মবেশ ধারণ করতে পারে। লার্ভা অবস্থায়ও এরা ছদ্মবেশ ব্যবহার করে, যাতে অজান্তে শিকারিকে আক্রমণ করতে পারে। প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায়ও পরিবেশের সঙ্গে রং পরিবর্তন করতে পারে। ছবিটি তুলেছেন ফ্রান্সের তিবু আন্দ্রিউ।

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাব আল খালি বিশ্বের বৃহত্তম বালুভূমি হিসেবে পরিচিত। আরব উপদ্বীপজুড়ে এটি বিস্তৃত। শিল্পীর হাতে আঁকা কোনো ছবি এটি নয়; রাব আল খালির দৃশ্য। কমলা রঙের বালির ঢেউ, স্তরভিত্তিক গঠনবিন্যাস; যা ডিউন গঠনের প্রক্রিয়ার ফসল। ছবিটি তুলেছেন ইতালির ম্যাথু স্ট্রাসেরা। 

 

প্রথম দেখায় যে কারো মনে হতে পারে, নীল রঙের প্রজাপতির মতো ডালে ডালে ফুল ফুটে আছে। কিন্তু তা নয়। এগুলো সত্যিকারের প্রজাপতি। যার নাম—ইরোস ব্লু বাটারফ্লাই। এগুলো কিংহাই উচ্চ মালভূমির অধিবাসী। সেখানে ছবিটি তুলেছেন চীনের হেয়ং কাই। 

 

ছবিতে সামদ্রিক মাছ মোজাম্বিক গোস্ট গোবির চোখ ছাড়া বাকি সব অদৃশ্য। মিশরের রেড সি-তে দৃশ্যটি ধারণ করা হয়েছে। এই মাছ এমনভাবে রং মিলিয়ে নেয় যে, শরীর প্রায় স্বচ্ছ মনে হয়। প্রধানত শিকার ও শিকারি এড়ানোর জন্য এই ছদ্মবেশ নেয় মাছটি। এই মাছের মধ্যে অনেক প্রজাতি রয়েছে; যারা চিংড়ি বা প্রবালের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতায় বাস করে। ছবিটি তুলেছেন যুক্তরাজ্যের সাইমন বিডি।