সারা বাংলা

মব সৃষ্টি করে নাঈমকে হত্যা করা হয়েছে: আইনজীবী

তুচ্ছ ঘটনায় মব সৃষ্টি করে পাবনার শিক্ষানবিশ আইনজীবী নাঈম কিবরিয়াকে হত্যা করা হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে। এমন মন্তব্য পাবনার আইনজীবীদের। 

নিহত নাঈম কিবরিয়া পাবনা পৌর সদরের চক জয়েনপুর মহল্লার গোলাম কিবরিয়া ও আইরিন কিবরিয়া কেকা দম্পতির সন্তান। নাঈম কিবরিয়া সবার কাছে ‘ক্যানি’ নামে পরিচিত। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় তিনি। তার ছোট ভাই একাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। 

পাবনার কয়েকজন আইনজীবীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, নাঈম কিবরিয়ার মা আইরিন কিবরিয়া কেকা পাবনা জেলা যুব মহিলা লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং ৫ আগস্ট এর আগ পর্যন্ত পাবনা জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ছিলেন। বাবা গোলাম কিবরিয়া ব্যবসায়ী। 

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পাবনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলি করে হত্যা মামলার এজারভুক্ত আসামি ছিলেন নাঈম কিবরিয়া। ৫ আগস্ট দেশের পট পরিবর্তনের পর তিনি ঢাকায় চলে যান। সেখানে তিনি মাঝেমধ্যে উবার চালাতেন বলে জানা যায়। 

পাবনা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এরশাদ হোসেন বলেন, “২০২২ সালে শিক্ষানবিস আইনজীবী হিসেবে পাবনা জজ কোর্টে কাজ শুরু করেছিলেন নাঈম কিবরিয়া। পেশার প্রতি যথেষ্ট ডেডিকেটেড ছিলেন তিনি। আচার আচরণ ভালো ছিল। তার এই বিচারবহির্ভূত হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’’

আরেক আইনজীবী রেজাউল করিম পলাশ বলেন, “মব সৃষ্টি করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। বিচার বহির্ভূতভাবে কোন মানুষকেই পিটিয়ে হত্যা করার অধিকার কারো নেই। নাঈম কিবরিয়া ক্যানি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন এর ছাত্র হত্যা মামলার আসামি হলেও তার জন্য দেশে প্রচলিত আইন রয়েছে তার বিচার হবে। এটি একটি পরিকল্পিত বিচার বহির্ভূত হত্যা। যা কোনভাবেই কাম্য নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে প্রত্যাশা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যার সাথে জড়িত সকলে আইনের আওতা আনা হোক।”

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য নাঈম কিবরিয়ার বাবা ও মায়ের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সন্তানের মৃত্যুর পর তারা ঢাকায় অবস্থান করছেন। 

প্রসঙ্গত, রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে একটি মোটরসাইকেলে প্রাইভেটকারের ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে নাঈম কিবরিয়াকে (৩৫) পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

উল্লেখ্য, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত দশটার দিতে নাঈমের প্রাইভেটকারটি একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। তখন নাঈমকে তার প্রাইভেটকার থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে এলোপাতাড়ি পেটায় মোটরসাইকেল আরোহীরা।

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকের ১০ নম্বর রোডের একটি বাড়ির সামনে থেকে তাকে ক্ষত–বিক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।