স্থানীয় ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালে ফিলিস্তিনি পতাকা আঁকা হেলমেট পরে খেলেছিলেন কাশ্মিরী ক্রিকেটার। এই অভিযোগ সামনে আসার পরেই বিতর্ক শুরু।
দক্ষিণ কাশ্মিরের ওই ক্রিকেটারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠিয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের ডোমানা থানার পুলিশ। তলব করা হয়েছে ওই ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজকদেরও।
ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালে যখন ভিডিও ক্যামেরা ওই ক্রিকেটারকে জুম করে, তখনই দেখা যায় তার মাথায় যে হেলমেটটি আছে, সেটির সামনে ফিলিস্তিনি পতাকা দেখা যায়। জানা গেছে, ওই ক্রিকেটারের নাম ফুরকান ভাট।
কোন পরিস্থিতিতে ওই ক্রিকেটার তার নিজের হেলমেটে ফিলিস্তিনি পতাকা লাগিয়েছেন, তা খতিয়ে দেখতে চাইছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) চলমান জম্মু ও কাশ্মীর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের একটি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ‘জে কে ইলেভেন কিংস’ এবং ‘জম্মু ট্রেলব্লেজার্স।’
অভিযুক্ত ক্রিকেটার ফুরকান ভাট ‘জে কে ইলেভেন কিংস’ দলের পক্ষে খেলছিলেন। ক্রিকেটার এবং টুর্নামেন্টের আয়োজককে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানার চেষ্টা করছে যে হেলমেটে ফিলিস্তিনি পতাকা লাগানোর বিষয় প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না।
জম্মু ও কাশ্মীর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (জেকেসিএ) দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার অনিল গুপ্তা বলেছেন, “টুর্নামেন্টটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছিল। এই টুর্নামেন্টের সাথে জেকেসিএর কোনো সম্পর্ক নেই। এটি একটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত টুর্নামেন্ট, যেখানে স্থানীয় খেলোয়াড়রা অংশ নেয় এবং আশ্চর্যজনকভাবে, দর্শকদেরও প্রবেশের অনুমতি নেই। ঘটনাটি আমাদের নজরে আনা হয়েছে, কিন্তু এটি স্থানীয় পুলিশ দেখছে। যেহেতু এটি আমাদের এখতিয়ারের বাইরে, তাই তারাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
এই ঘটনায় অভিযুক্ত ক্রিকেটারের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন কাশ্মীরের বিজেপি বিধায়ক আর এস পাঠানিয়া।
তিনি বলেছেন, “ইসরায়েলের রাষ্ট্রসত্তা এবং ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল সংঘাতের বিষয়ে ভারত সরকারের একটি নিরপেক্ষ নীতি রয়েছে। কাশ্মীরের কিছু উগ্রপন্থি গোষ্ঠী এটিকে একটি নতুন রূপ ও রঙ দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমি এর নিন্দা জানাই। এই পুরো ঘটনাটির তদন্ত হওয়া উচিত এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ফিলিস্তিনি পতাকা ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে এবং এই অভিযোগে ভারতীয় পুলিশের হাতে আটকের ঘটনাও ঘটেছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসের শুরুতে উত্তর প্রদেশের দেওরিয়ায় তাজিয়া মিছিলের সময় ফিলিস্তিনি পতাকার ছবিযুক্ত টি-শার্ট পরার অভিযোগে চার যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। একই মাসে আগ্রায় মহররমের মিছিলে ফিলিস্তিনি পতাকা ওড়ানোর অভিযোগে আরেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।