আন্তর্জাতিক

ভেনেজুয়েলার তেলখনির সংস্কার করবে যুক্তরাষ্ট্র

ভেনেজুয়েলার তেলখনির সংস্কার করবে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য শোনা গেছে। তার বক্তব্যের মূল দিকগুলো মধ্যে রয়েছে ভেনেজুয়েলার পুনর্গঠন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে দেশটি পরিচালিত হবে। আর ভেনেজুয়েলার তেলখানিগুলোর দখল নেবে মার্কিন কোম্পানিগুলো, যার সেখানে সংস্কার চালাবে।

বামপন্থি বিপ্লবী নেতা হুগো শাভেজের উত্তরসূরি হিসেবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের আসনে বসেন একসময়ের বাস-চালক নিকোলাস মাদুরো। রাজনীতিতে তার বিস্ময়কর উত্থান নিয়ে বিতর্ক ছিল; তবে যুক্তরাষ্ট্র তাকে সহ্য করেনি; এমনকি তাকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করে। অবশেষে আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্ব ভঙ্গ করে ভেনেজুয়েলায় ঢুকে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে গেছে ট্রাম্পের নির্দেশিত হানাদার বাহিনী।

এই অভিযানের বিষয়ে শনিবার ব্রিফ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কোম্পানি ভেনেজুয়েলায় গিয়ে দেশটির তেল অবকাঠামো সংস্কার করবে এবং এর মাধ্যমে দেশটির জন্য অর্থ উপার্জন শুরু করবে।

ট্রাম্প বলেন, ‘নিরাপদ, সঠিক ও চমৎকার ক্ষমতা হস্তান্তর’ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে। কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র এই দায়িত্ব পালন করবে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।

তিনি জানান, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় দ্বিতীয় দফা হামলা চালাতে প্রস্তুত রয়েছে, যদিও তার মতে সেটির প্রয়োজন সম্ভবত হবে না।

ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে একটি ‘অংশীদারত্বের’ কথা তুলে ধরেছেন। তার দাবি, এই অংশীদারত্ব ভেনেজুয়েলার জনগণকে ‘সমৃদ্ধ, স্বাধীন ও নিরাপদ’ করে তুলবে। একই সঙ্গে তিনি নিকোলাস মাদুরোকে ‘অবৈধ স্বৈরশাসক’ হিসেবে আখ্যা দেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, মাদুরো ও তার স্ত্রীকে নিউইয়র্কে নেওয়া হচ্ছে, যেখানে তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার-সংক্রান্ত অভিযোগে বিচার করা হবে। 

মাদুরো অবশ্য বরাবরই মাদক চক্রের সঙ্গে সংযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে।

ভেনেজুয়েলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুক্ষণ আগে এক ঘোষণায় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা ‘পরিচালনা করবে’। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন। 

ট্রাম্প বলেন, “যতক্ষণ না আমরা ভেনেজুয়েলাকে একটি নিরাপদ রাষ্ট্রে রূপান্তর সম্পন্ন করতে পারছি, ততক্ষণ আমরাই দেশটি পরিচালনা করব।”

তিনি আরো বলেন, “আমরা চাই না অন্য কেউ সেখানে ঢুকে পড়ুক এবং গত দীর্ঘ বছর ধরে আমরা যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছি, আবারও সেই একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হোক।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় ‘দ্বিতীয় এবং আরো বড় ধরনের হামলার জন্য প্রস্তুত’, তবে প্রথম অভিযানের ‘সাফল্যের’ কারণে সম্ভবত এর প্রয়োজন হবে না।”

ট্রাম্প জানান, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন দ্বার উন্মোচন করবে। মার্কিন কোম্পানিগুলো খুব শিগগির ভেনেজুয়েলার বিশাল জ্বালানি প্রকল্পগুলোতে অংশ নেবে।

ট্রাম্প দাবি করেন, “সবাই জানে, দীর্ঘ সময় ধরে ভেনেজুয়েলার তেলের ব্যবসা একটি চরম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল। তাদের সক্ষমতার তুলনায় তারা প্রায় কিছুই উত্তোলন করতে পারছিল না।”

তিনি আরো যোগ করেন, “আমরা আমাদের খুব বড় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে- যা বিশ্বের মধ্যে বৃহত্তম- ভেনেজুয়েলায় পাঠাতে যাচ্ছি। তারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে, জরাজীর্ণ অবকাঠামো মেরামত করবে এবং দেশটির জন্য অর্থ উপার্জন শুরু করবে।”

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিচার যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মাদুরোর অপরাধের বিষয়ে মার্কিন আদালতগুলোর কাছে ‘অকাট্য প্রমাণ’ রয়েছে।

মাদুরো সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, “মাদুরো খুবই ভয়ংকর। মাদুরো ক্ষমতায় থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবিরাম সহিংসতা, সন্ত্রাস এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন, যা কেবল আমাদের জনগণের জন্যই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি স্বরূপ।”

মাদুরোকে মুক্তি দিতে বলল রাশিয়া

ভেনেজুয়েলার শক্তিশালী মিত্র রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আছেন এমন নিশ্চিত প্রতিবেদনের আলোকে, আমরা মার্কিন নেতৃত্বকে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করার এবং একটি সার্বভৌম দেশের আইনত নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এবং তার স্ত্রীকে মুক্তি দেওয়ার জন্য জোরালোভাবে আহ্বান জানাচ্ছি।”

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মার্কিন পদক্ষেপকে ‘সশস্ত্র আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করে এর তীব্র নিন্দা জানায়। 

বিবৃতিতে বলা হয়, “ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মার্কিন পদক্ষেপগুলোকে সমর্থন করার জন্য যে অজুহাতগুলো দেখানো হয়েছে তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। সম্পর্ক গড়ার ইচ্ছার চেয়ে এখানে আদর্শিক শত্রুতাকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।”

মাদুরোকে আটকের ছবি প্রকাশ করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুক্ষণ আগে ট্রুথ সোশ্যালে একটি নতুন ছবি শেয়ার করেছেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এই ছবিতে নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ইও জিমা’-তে দেখা যাচ্ছে।

এর আগে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন যে, এই যুদ্ধজাহাজটি ভেনেজুয়েলার আটককৃত প্রেসিডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসছে।

ছবিটিতে মাদুরোর মতো দেখতে একজনকে দেখা যাচ্ছে, যার চোখে বাঁধা, হাতে হাতকড়া এবং কানে হেডফোন রয়েছে এবং তিনি একটি ধূসর রঙের ট্র্যাকসুট পরে আছেন।

গোপন তথ্যে মাদুরোর অবস্থান শনাক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলা সরকারের প্রশাসনে থাকা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর একজন তথ্যদাতা মার্কিন বাহিনীকে নিকোলাস মাদুরোর অবস্থান শনাক্ত করতে সাহায্য করেছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতেই মার্কিন সেনাবাহিনীর এলিট ‘ডেল্টা ফোর্স’ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। খবরটি সর্বপ্রথম নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রকাশ করেছে।

সূত্রের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজের খবরে বলা হয়, এই হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স বা মানব উৎসটি ছিল একটি বিশাল গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের অংশ। এর পাশাপাশি আকাশপথে নজরদারি এবং সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্সের সাহায্যও নেওয়া হয়েছিল। সিআইএ এবং প্রতিরক্ষা দপ্তরের মধ্যে কয়েক মাসের সূক্ষ্ম পরিকল্পনা ও অংশীদারিত্বের ফলেই এই অভিযানটি সফল হয়।

সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ এর আগে বলেছিলেন যে, সংস্থাটি মাঠ পর্যায়ে মানব তথ্যদাতা বা গোয়েন্দা নিয়োগের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।

তবে এই তথ্যদাতার সঙ্গে ঠিক কবে যোগাযোগ করা হয়েছিল বা তাকে কবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, মাদুরোকে গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য মার্কিন সরকার ৫০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

‘মাদুরোর বন্দি হওয়া প্রমাণ করে- ট্রাম্প যা বলেন, তাই করেন’

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্স-এক একটি পোস্টে বলেছেন, “প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (মাদুরোকে নিরাপদ দেশত্যাগের জন্য) একাধিক সুযোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু পুরো প্রক্রিয়া জুড়েই তিনি একটি বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ছিলেন: মাদক পাচার অবশ্যই বন্ধ হতে হবে এবং চুরি করা তেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত দিতে হবে।”

পোস্টে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, “ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো হলেন সাম্প্রতিকতম ব্যক্তি যিনি বুঝতে পারলেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যা বলেন তাই করে দেখান। আমাদের সেই সাহসী স্পেশাল বাহিনীকে সাধুবাদ জানাই, যারা সত্যিই একটি অসাধারণ অভিযান সম্পন্ন করেছেন।”

ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতায় মাচাদোকে বসানোর ইঙ্গিত ট্রাম্পের

ভেনেজুয়েলার ক্ষমতা গ্রহণের জন্য বর্তমানে নরওয়েতে অবস্থানরত বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদোকে তিনি সমর্থন করবেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, “আমাদের এখনই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে।”

তিনি আরো বলেন, “আপনারা জানেন যে তাদের (ভেনেজুয়েলার) একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট আছেন। আমি জানি না, সেটি কী ধরনের নির্বাচন ছিল, তবে মাদুরোর নির্বাচন ছিল একটি কলঙ্কজনক ঘটনা।”

মাদুরোকে আটক করার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, এটি “একটি বার্তা পাঠায় যে যুক্তরাষ্ট্রকে দমিয়ে রাখা যাবে না।”

ভেনেজুয়েলার মাদকের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর বহু মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি যোগ করেন, “আমরা আর এভাবে এটি চলতে দেব না।”

ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকেই নিকোলা মাদুরোকে তার প্রধান নিশানা বানান। তিনি মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচার এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী পাঠানোর মতো অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তোলেন। গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিকোলা মাদুরোকে বিশ্বের অন্যতম বড় মাদক পাচারকারী হিসেবে অভিযুক্ত করে তাঁর মাথার দাম ৫ কোটি ডলার ঘোষণা করে।

এরপর থেকে ট্রাম্প প্রকাশ্যেই ভেনেজুয়েলার শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন।  নভেম্বরের শেষ দিকে তিনি মাদুরোকে ক্ষমতা ছাড়ার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেন এবং নিরাপদে দেশ ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। মাদুরো সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তিনি ‘দাসের শান্তি’ চান না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে তেল লোভী হিসেবে অভিযুক্ত করেন।

ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের আসল লক্ষ্য মাদুরোর সরকারকে হটিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম তেলের মজুত দখল করা। বিশ্লেষকদের মতে, একটি দেশের ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে এভাবে বন্দী করার ঘটনা নজিরবিহীন।

মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিউ ইয়র্কে আনা হচ্ছে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে মার্কিন বাহিনী আটকের পর নিউ ইয়র্কে নিয়ে আসছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, নিউ ইয়র্কে এই দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদেরকে হেলিকপ্টার ও জাহাজে করে নিয়ে আসা হচ্ছে। 

ট্রাম্প দাবি করেন, তারা অনেক মানুষ এবং অনেক আমেরিকানকে হত্যা করেছে, এমনকি তাদের নিজের দেশের মানুষকেও হত্যা করেছে।

‘দুর্গের মতো’ এক জায়গা থেকে মাদুরোকে ধরা হয়েছে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেছেন, মার্কিন বাহিনী চার দিন আগেই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেসময় আবহাওয়া অনুকূল ছিল না।

ট্রাম্প বলেন, “আবহাওয়া একদম নিখুঁত হতে হয়... হঠাৎ করেই আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায় এবং আমি অভিযান শুরু করতে বললাম।”

তিনি আরো যোগ করেন, “মার্কিন বাহিনী যখন মাদুরোকে বন্দি করে, তখন মাদুরো ‘এমন একটি বাড়িতে ছিলেন যা বাড়ির চেয়ে বেশি দুর্গের মতো’ এবং যার ‘চারপাশ ছিল নিরেট ইস্পাতে ঘেরা’।”

এই অভিযানে কোনো মার্কিন সেনা নিহত হননি দাবি করে ট্রাম্প বলেন, “কয়েকজন সেনা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন, কিন্তু তারা ফিরে এসেছেন এবং ধারণা করা হচ্ছে তারা বেশ ভালো অবস্থায় আছেন।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি এক সপ্তাহ আগেই মাদুরোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন এবং সেসময় তাকে আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

ভেনেজুয়েলা জয়ী হবে, কোনো আপস নয়: প্রতিরক্ষামন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলায় হামলায় চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ।

শনিবার এক ভিডিও ভাষণে লোপেজ বলেন, “মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ভেনেজুয়েলা জয়ী হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটি কোনো আপস করবে না। ভেনেজুয়েলা হাল ছাড়বে না।"

লোপেজ বলেন, “ভেনেজুয়েলার মুক্তি এবং স্বাধীনতা কোনো দরকষাকষির বিষয় হতে পারে না।”

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, “এই সংকটময় মুহূর্তে জয়ী হওয়ার জন্য দেশের সবাইকে শান্ত ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমাদের আতঙ্কিত হওয়া চলবে না, কারণ আমাদের শত্রুরা ঠিক সেটিই অর্জন করতে চায়। শত্রু আমাদের মাতৃভূমি এবং জাতির মধ্যে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।”

তিনি বলেন, “আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে করা অঙ্গীকারের প্রতি অবিচল এবং অটল থাকব: যেকোনো ধরনের যুদ্ধংদেহী মনোভাব বা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমরা আমাদের মাতৃভূমিকে রক্ষা করব। আর এ কারণেই মার্কিন হামলার পর ভেনেজুয়েলার সংবিধান অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে সশস্ত্র বাহিনীর সব বিভাগকে মোতায়েন করা হয়েছে।”

নিউ ইয়র্কে মাদক ও অস্ত্র মামলায় মাদুরো অভিযুক্ত: মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি।

বন্ডি জানান, মাদুরোর বিরুদ্ধে ‘মাদক-সন্ত্রাসবাদ ষড়যন্ত্র, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র, মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক সরঞ্জাম রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক সরঞ্জাম রাখার ষড়যন্ত্রের' অভিযোগ আনা হয়েছে।”

বন্ডি আরো বলেন, “তারা (মাদুরো ও তার স্ত্রী) শিগগির মার্কিন মাটিতে, মার্কিন আদালতে বিচারের মুখোমুখি হবেন।” তবে মাদুরোর স্ত্রীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী কী অভিযোগ আনা হয়েছে, তা তিনি উল্লেখ করেননি।

মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল আরো যোগ করেন, “আমাদের সাহসী সামরিক বাহিনীকে জানাই বিশাল ধন্যবাদ, যারা এই দুই অভিযুক্ত আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারীকে ধরতে অত্যন্ত সফল ও অবিশ্বাস্য একটি অভিযান পরিচালনা করেছেন।”

মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি করা হবে: মার্কিন সিনেটর

রিপাবলিকান মার্কিন সিনেটর মাইক লি বলেছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাকে জানিয়েছেন যে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী আটক করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে মাদুরোর বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি অপরাধের বিচারের জন্য তাকে ধরে আনা হয়েছে। 

ওয়াশিংটনের শীর্ষ কূটনীতিকের সঙ্গে ফোনালাপের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লি লিখেছেন, “তিনি (রুবিও) ধারণা করছেন, মাদুরো এখন মার্কিন হেফাজতে থাকায় ভেনেজুয়েলায় আর কোনো নতুন সামরিক অভিযানের প্রয়োজন হবে না।”

আন্তর্জাতিক আইনের কফিনে শেষ পেরেক: বিশেষজ্ঞ 

কাতারের হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক পলিসির অধ্যাপক সুলতান বারাকাতের মতে, মার্কিন সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের সমাপ্তির ইঙ্গিত দেয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক মন্তব্যে বলেন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের নজিরবিহীন অভিযান অন্যদেরও একই কাজ করার সুযোগ বা অজুহাত তৈরি করে দিয়েছে।

বারাকাত বলেন, “এটি সম্ভবত যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তির কফিনে শেষ পেরেক। রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের যে মূলনীতি, তা এখন ছিন্নভিন্ন করে ফেলা হয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “এটি লেবানন ও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইসরায়েলের পরিচালিত কিছু অভিযানেরই ধারাবাহিকতা। তারা এখন সীমা লঙ্ঘনের মানদণ্ডকে আমাদের অভ্যস্ততার চেয়ে অনেক বেশি উপরে নিয়ে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক রীতিনীতি এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম পরিপন্থি।”

ভবিষ্যত দৃষ্টান্ত স্থাপনের বিষয়ে বারাকাত বলেন, চীন এখন যুক্তরাষ্ট্রের এই কর্মকাণ্ডকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে তাদের নিজস্ব পদক্ষেপের ন্যায্যতা প্রমাণ করতে পারে, যা চীন দীর্ঘকাল ধরে দাবি করে আসছে।”

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন ‘সশস্ত্র আগ্রাসনের’ নিন্দা রাশিয়ার

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ‘সশস্ত্র আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একইসঙ্গে তারা সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে এবং পরিস্থিতি আরো অবনতি হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “এই পদক্ষেপগুলোকে সমর্থন করার জন্য যে অজুহাতগুলো দেখানো হয়েছে তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। ব্যবহারিক বাস্তববাদ এবং আস্থা ও অনুমানের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ার ইচ্ছার চেয়ে এখানে আদর্শিক শত্রুতাকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।”

মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের ডাক ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন বাহিনী। এর প্রতিক্রিয়ায় ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ তাৎক্ষণিকভাবে দেশজুড়ে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন। খবর বিবিসির।

শনিবার  ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র সফলভাবে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের হামলা পরিচালনা করেছে এবং এর নেতা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকেতার স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার করে দেশ থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই অভিযানটি যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ে করা হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।”

এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ দেশজুড়ে তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন। 

ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ একটি ভিডিও ভাষণে বলেন, “সরকার প্রেসিডেন্ট মাদুরো বা ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসের অবস্থান জানে না।” তিনি আরো বলেন, সরকার তাদের উভয়ের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ‘জীবনের প্রমাণ’ দাবি করছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত হওয়া ‘সবচেয়ে ভয়াবহ আগ্রাসনের’ মুখে প্রতিরোধের একটি ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট গঠনের আহ্বান জানান। তিনি আরো যোগ করেন, ভেনেজুয়েলা ‘মাদুরোর নির্দেশ’ পালন করছে যে, দেশের সব সশস্ত্র বাহিনীকে মোতায়েন করা হবে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “তারা (যুক্তরাষ্ট্র) আমাদের ওপর আক্রমণ করেছে কিন্তু তারা আমাদের দমাতে পারবে না।”