খেলাধুলা

মোস্তাফিজুরের কিপটে বোলিংয়ে ঢাকার হৃদয় ভাঙল রংপুর

জয়ের ছবি আঁকছিল ঢাকা ক্যাপিটালস। রংপুর রাইডার্সের দেওয়া ১৫৬ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ১৭ ওভারে ৩ উইকেটে ১৩১ রান তুলে নিয়েছিল তারা। হাতে ৭ উইকেট। ক্রিজে ফিফটি ছোঁয়া ব্যাটসম্যান অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। সঙ্গে ফর্মে থাকা শামীম হোসেন পাটোয়ারী।

মোস্তাফিজুরের শেষ দুই ওভার তখনও বাকি। ১৮তম ওভারে বোলিংয়ে আসলেন বাঁহাতি পেসার। ব্যাস। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন তিনি। মিঠুন ও শামীমকে আটকে রেখে মাত্র ২ রান দেন নিজের তৃতীয় ওভারে। তাতে আসকিং রেট বেড়ে যায় প্রায় ১২ তে।

শেষ ১২ বলে ২৩ রানের চেষ্টায় ঢাকা ১৯তম ওভারে ১৩ রান তুলে নিলে শেষ ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ১০ রানে। কিন্তু মোস্তাফিজুর এখানেও ছিলেন ধ্রুপদী। ক্রিজে থাকা সাব্বির রহমান ও মিঠুনকে আটকে রাখেন। কোনো বাউন্ডারি হজম করেননি এ সময়ে। তাতে ৪ রানের পরাজয় নিয়ে হৃদয় ভাঙে ঢাকা ক্যাপিটালসের।

হাত থেকে প্রায় ফসকে যাওয়া ম্যাচ রংপুর রাইডার্সকে জিতিয়েছেন মোস্তাফিজুর। শেষ ২ ওভারে মাত্র ৬ রান খরচ করেন। এর আগে ২ ওভারে দিয়েছেন ১৭ রান। সব মিলিয়ে ৪ ওভারে ২৩ রানে ১ উইকেট নিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান তাদের জয়ের অন্যতম নায়ক।

রংপুরের হয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন মাহমদুউল্লাহ রিয়াদ। দলকে খাদের কিনারা থেকে উঠিয়ে ৪১ বলে ৭ চারে ৫১ রান করেন তিনি। টানা দ্বিতীয় ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেলেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার।

রংপুরের ব্যাটিং এদিন ভালো হয়নি। কাইল মায়ার্স ১১, লিটন ৬ রান করেন। তাওহীদ হৃদয় খুলতে পারেননি রানের খাতা। তিনে নেমে ডেভিড মালান ৩৩ বলে করেন ৩৩ রান। শেষ দিকে খুশদীল শাহ ২১ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৩৮ রান করলে রংপুর বলার মতো পুঁজি পায়। ঢাকার হয়ে জিয়াউর রহমান ৩৫ রানে নেন ২ উইকেট।

জবাব দিতে নেমে ঢাকা ভালো শুরু পায় রহমানউল্লাহ গুরবাজ (৩১) ও আব্দুল্লাহ আল মামুনের (২০) ব্যাটে। ৫৪ রানের জুটি গড়েন তারা। কিন্তু ৪ রানের ব্যবধানে দুই ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরলে চাপে পড়ে ঢাকা। সেখান থেকে মিঠুন ও সাইফের ব্যাটে ভালো অবস্থানে চলে যায়। মনে হচ্ছিল তারাই দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়বেন। সাইফের (১৫) বিদায়ে ও শামীম (১১) আউট হলে ঢাকার জয়ের সম্ভাবনা কমতে শুরু করেন। সাব্বির ক্রিজে গিয়ে ১টি করে চার ও ছক্কায় চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু মোস্তাফিজুরের দ্যুতিতে শেষ হাসিটা হাসা হয়নি ঢাকার।

চার ম্যাচে রংপুরের এটি তৃতীয় জয়। সমান ম্যাচে ঢাকার তৃতীয় হার।