সুন্দরবনে হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়া সেই বাঘিনীকে বন বিভাগ উদ্ধার করে খুলনায় এনেছে চিকিৎসার জন্য, যার অবস্থা তেমন ভালো নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) বিকালে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির এলাকা থেকে বাঘিনীটিকে উদ্ধার করা হয়। ফাঁদে পড়ে বেহাল বাঘিনীকে উদ্ধারের জন্য অচেতন করা হয়; সব মিলে নেতিয়ে পড়েছে সে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দীপন চন্দ্র দাস রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “প্রায় দুই ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার পর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বাঘিনীটিকে উদ্ধার করা হয়। প্রথমে একে চেতনানাশক প্রয়োগের মাধ্যমে অজ্ঞান করা হয়। এরপর নিরাপদে ফাঁদ থেকে মুক্ত করা হয়।”
বন কর্মকর্তারা জানান, শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে টহলের সময় পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সরকার খাল এলাকায় ফাঁদে আটকে থাকা বাঘিনীকে দেখতে পান। অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিয়ে গাজীপুর সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ পশুচিকিৎসক জুলকার নাঈমের তত্ত্বাবধানে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির জানান, বাঘটিকে উদ্ধার করে খুলনায় বনবিভাগের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বাঘটি অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার শরীরে ওষুধ ও স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। তার শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। খুলনায় চিকিৎসা শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বনবিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনা কার্যালয়ের মৎস্য বিশেষজ্ঞ ও স্মার্ট ডাটা কো-অর্ডিনেটর মো. মফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে বাঘটিকে ট্রানকুইলাইজার দিয়ে অচেতন করা হয়। উদ্ধারের পর চিকিৎসার জন্য বাঘটিকে খুলনায় নেওয়া হয়েছে।
শনিবার দুপুরের পর বনবিভাগের কাছে খবর আসে, মোংলার শরকির খাল দিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার ভেতরে হরিণ শিকারের ফাঁদে একটি বাঘ আটকে রয়েছে। সেটি উদ্ধারের জন্য রবিবার দুপুরে ঢাকা থেকে ভেটেরিনারি সার্জনসহ একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পাশাপাশি খুলনা থেকে বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারাও উদ্ধার কাজে অংশ নেন।