ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের আটক করার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, বেইজিং কোনো দেশের ‘বিশ্বের বিচারক’ হিসেবে আচরণ করা মেনে নেবে না। খবর রয়টার্সের।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) বেইজিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে এক বৈঠকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করে ‘ভেনেজুয়েলার আকস্মিক পরিস্থিতি’র কথা তুলে ধরেন ওয়াং। তিনি বলেন, “আমরা কখনোই বিশ্বাস করি না যে কোনো দেশ বিশ্বের পুলিশ হিসেবে কাজ করতে পারে, কিংবা আমরা কোনো দেশের ‘বিশ্বের বিচারক’ হওয়ার দাবিকেও মেনে নেই না।”
শনিবার ৬৩ বছর বয়সী মাদুরোর চোখ বাঁধা ও হাতকড়া পরা ছবি ভেনেজুয়েলাবাসীকে স্তব্ধ করে দেওয়ার পর চীনের এই শীর্ষ কূটনীতিক প্রথমবারের মতো প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় সব দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা পুরোপুরি সুরক্ষিত হওয়া উচিত।”
মাদুরো বর্তমানে নিউ ইয়র্কের একটি আটক কেন্দ্রে আছেন এবং আজ সোমবার মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
বেইজিং সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক পরাশক্তি হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে অপ্রত্যাশিত সমঝোতা করানোর পর তারা বৈশ্বিক সংকটে ‘গঠনমূলক ভূমিকা’ রাখার অঙ্গীকার করে।
২০২৩ সালে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করে চীন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা সাময়িকভাবে ‘পরিচালনা’ করার ঘোষণা এই অংশীদারিত্বের জন্য এক বড় পরীক্ষা।
২০১৭ সালে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পর থেকেই চীন দেশটির অর্থনীতির জন্য একটি লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, চীন ভেনেজুয়েলা থেকে প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কিনেছে।
এছাড়া ভেনেজুয়েলার তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, ২০১৮ সাল নাগাদ চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।
চীনের একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা আগেও চীনের লাতিন আমেরিকা বিষয়ক বিশেষ দূতের সঙ্গে মাদুরোর বৈঠক হয়েছিল। তিনি বলেন, “এটি চীনের জন্য একটি বড় ধাক্কা, কারণ আমরা ভেনেজুয়েলার একজন নির্ভরযোগ্য বন্ধু হিসেবে পরিচিত হতে চেয়েছিলাম।”