চায়ের রাজ্য হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজারে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। প্রচণ্ড ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলার ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি রবি শস্যে দেখা দিয়েছে পাতামোড়া বা চারা পোড়া (নাবিধ্বসা) ছত্রাক। ফলে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
চাষিরা মনে করছেন, আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে আলু ও টমেটোসহ বিভিন্ন জাতের রবি শস্য ও বোরো বীজতলায় এই ছত্রাক ব্যপক ক্ষতি করতে পারে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছেন, জেলার হাওর ও হাওরের বাইরে ৩ হাজার ৪৩৩ হেক্টর বোরো বীজতলা রয়েছে। ২ হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে আলু এবং ১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে টমেটো আবাদ হয়েছে। এখন পর্যন্ত ক্ষতির কোনো হিসাব তাদের কাছে নেই।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
৪ জানুয়ারি সকাল ৬টায় এই জেলার শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১ জানুয়ারি এই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২৮ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় মৌলভীবাজার জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করে শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস।
মৌলভীবাজার কুলাউড়া উপজেলার হাকালুকি হাওর পারের জাব্দা গ্রামের শামীম মিয়া বলেন, “গত ১৫ দিনের ঠান্ডায় আমাদের রবি শস্য বীজ তলায় সবজির কচি চারায় পাতা মোড়ানো ছত্রাক বা চারা পোড়া দেখা দিয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে কীটনাশক দিচ্ছি।”
বরো ধানের বীজতলা
কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের ছয়কুট গ্রামের আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, “প্রতিকূল আবহওয়ার বিরূপ প্রভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আমার এলাকার প্রায় ২ একর জমির রবি শস্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন শঙ্কায় রয়েছি।”
রাজনগর উপজেলা সদরের বাজুয়া গ্রামের আব্দুল মান্নান বলেন, “তিন বিঘা জমির বোরো বীজতলায় পাতা মোড়ানো ছত্রাকে দেখা দিয়েছে।”
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষক কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, “আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শ্রীমঙ্গলে রেকর্ড হয়েছে। শীতের মৌসুমে তাপমাত্রা উঠানামা করে। চলতি মৌসুমে ঠান্ডার তীব্রতা অনেক বেশি।”
মৌলভীবাজার কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, “শীত ও কুয়াশায় কী পরিমাণ রবি শস্যের ক্ষতি হয়েছে তার কোনো হিসাব আমাদের কাছে আসেনি। কৃষকদের কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”