গত ১৩ দিন ধরে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। শুরুতে ছোট আকারেও হলেও এখন সেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানী তেহরানসহ শতাধিক শহরে। ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার বছর না ঘুরতেই কেন ইরানে এই ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হলো? কারা আছে এই বিক্ষোভের পেছনে?
বিশ্ববাজারে ইরানি রিয়ালের ব্যাপক দরপতন, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও কঠোর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাজনিত গভীর অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা ডিসেম্বরের শেষ দিকে দোকানপাট বন্ধ করে প্রথম বিক্ষোভ শুরু করেছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে বৈঠক করা হয়। ব্যবসায়ীদের শান্ত করতে সরকার কর ছাড়, কর জরিমানা স্থগিত এবং আমদানির জন্য ভর্তুকিযুক্ত বৈদেশিক মুদ্রা প্রদানের প্রস্তাব দেয়। বাজারের ব্যবসায়ীরা শান্ত হলেও এবার আঘাত আসে অন্য দিক থেকে। বরাবরই রাজধানী তেহরান ছিল যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামের কেন্দ্রস্থল। এবার বিরোধীরা রাজধানী থেকে বহুদূরের শহরগুলোতে ছোট ছোট আকারে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। অর্থাৎ ধর্মপন্থী শাসকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করতে এবার ভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে বিরোধীরা। ইরান বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিক্ষোভকারীদের পেছনে অর্থ ঢালছে এবং ইরানের সরকার পরিবর্তনের জন্য কাজ করছে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ অনুসন্ধানী সাংবাদিক কিট ক্ল্যারেনবার্গের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। তাতে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিকট প্রাচ্য আঞ্চলিক গণতন্ত্র তহবিল (এনইআরডি) ইরান সরকারকে উৎখাত করতে বছরের পর বছর ধরে লাখ লাখ ডলার খরচ করছে। গোপন নথির সূত্র ধরে বলা হয়- বিক্ষোভ উস্কে দিতে ইরানের সুনির্দিষ্ট বিরোধী দল,আইনজীবী, অধিকারকর্মী ও ধর্মীয় নেতাদের অর্থ সহায়তা প্রদান, ভুয়া তথ্য ছড়াতে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের অর্থায়ন করছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া প্রোপাগাণ্ডা ছড়াতে বিদেশে থাকা তথাকথিত ইরানি অধিকারকর্মী ও বুদ্ধিজীবীদের অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
চলতি সপ্তাহে ইরানি বিক্ষোভকারীরা সাবেক শাসক মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভির ছেলে রেজা পাহলভির পক্ষে স্লোগান দিচ্ছেন। আর এই রেজা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ওয়াশিংটনের আর্থিক সহায়তায় আয়েসী জীবন-যাপন বাস করছেন। তিনি ইরানের শত্রু ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক। রেজার বাবা পশ্চিমাদের ইরানের তেল লুটপাটের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তবে তার ক্ষমতাচ্যুতির পরে পশ্চিমাদের সেই লুটপাটের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। তাই রেজা শাহের ছেলেকে ক্ষমতায় বসিয়ে তেল লুটপাটের সুযোগ ফিরে পেতে যুক্তরাষ্ট্র যে ইরানের বিক্ষোভকারীদের অর্থ ঢালছে তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই।