বিপিএলের দ্বাদশ আসরে প্রথমবার সুযোগ পেয়ে অম্লমধুর স্বাদ পেলেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। রংপুর রাইডার্সের শুরুর ৫ ম্যাচে তার একাদশে জায়গা হয়নি।সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ষষ্ঠ ম্যাচে তাকে নিয়ে মাঠে নামে বিপিএলের অন্যতম সফল দল।
কিন্তু শুরুতে ২ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে অধিনায়কের আস্থা হারান বাঁহাতি পেসার। তাকে আবার শেষ ওভার করতে নিয়ে আসেন রংপুরের অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে একটি দুই ও দ্বিতীয় বলে ছক্কা হজম করেন।
রংপুরের অধিনায়ক ছিলেন পুরোপুরি বিরক্ত। কিন্তু পরের তিন বলে মৃত্যুঞ্জয় হিসেব পাল্টে দেন। টানা তিন বলে তিন উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন। প্রথমে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন।পরে জহির খান ও বিলাল সামিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। সব মিলিয়ে ৪৩ রানে ৩ উইকেট পেয়েছেন মৃত্যুঞ্জয়।
বিপিএলে মৃত্যুঞ্জয়ের এটি দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। সব মিলিয়ে বিপিএলের দশম হ্যাটট্রিক। আজকের হ্যাটট্রিকে অনন্য এক রেকর্ডে মৃত্যুঞ্জয় নিজের নাম তুলেছেন। একমাত্র বোলার হিসেবে বিপিএলে একাধিক হ্যাটট্রিকের রেকর্ড তার দখলে। এর আগে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি।
২০১২ সালে বিপিএলের প্রথম আসরে একমাত্র হ্যাটট্রিক করেছিলেন দুরন্ত রাজশাহীর মোহাম্মদ সামি। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের ড্যারেন স্টিভেন্স, আফতাব আহমেদ ও নাভেদ উল হাসানের উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
তিন বছর পর ২০১৫ সালে আল-আমিন হ্যাটট্রিক করেন বরিশাল বুলসের হয়ে। সিলেট সুপারস্টারসের রবি বোপারা, নুরুল হাসান ও মুশফিকুর রহিমকে আউট করেন তিনি। ২০১৯ বিপিএলে তিনটি হ্যাটট্রিক হয়েছিল। শুরুটা ঢাকা ডায়নামাইটসের আলিস আল ইসলামকে দিয়ে।নিজের অভিষেক ম্যাচে আলিস মোহাম্মদ মিঠুন, মাশরাফি বিন মুর্তজা ও ফরহাদ রেজার উইকেট নেন।
পরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ওয়াহাব রিয়াজ হ্যাটট্রিক করেন খুলনা টাইটান্সের বিপক্ষে। তার শিকার ছিল ডেভিড ভিসে, তাইজুল ইসলাম ও মোহাম্মদ সাদ্দাম। ঢাকার হয়ে খেলা আন্দ্রে রাসেল হ্যাটট্রিক করেন ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে। চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে তার হ্যাটট্রিক ছিল মুশফিকুর রহিম, ক্যামেরুন ডেলপোর্ট ও দাসুন শানাকা।
২০২২ বিপিএলে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী হ্যাটট্রিক করেন সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে। মৃত্যুঞ্জয় উইকেট নেন এনামুল হক, মোসাদ্দেক হোসেন ও রবি বোপারার।
গত বিপিএলে দুটি হ্যাটট্রিক হয়েছিল। দুর্দান্ত ঢাকার শরিফুল ইসলাম হ্যাটট্রিক করেন খুশদিল শাহ, রোস্টন চেজ ও মুকিদুল ইসলাম অঙ্কনকে ফিরিয়ে। এছাড়া, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের মঈন আলী চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের শহীদুল ইসলাম, আল-আমিন হোসেন ও বিলাল খানকে আউট করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন।
এবারের আসরে মেহেদী হাসান রানা হ্যাটট্রিকের খাতা খুলেন। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের পেসার সিলেট টাইটান্সের মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ ও খালেদকে আউট করেছিলেন। সেই পথ ধরে এগিয়ে গেলেন মৃত্যুঞ্জয়। তবে একাধিক হ্যাটট্রিকের কীর্তিতে সবাইকে ছাড়িয়ে উপরে তিনি।