আন্তর্জাতিক

বিক্ষোভ দমনে কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত ইরানি কর্তৃপক্ষের

সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। শনিবার দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সন্ত্রাসীদের উপর অস্থিরতার জন্য দোষ চাপিয়েছে এবং শাসন ব্যবস্থাকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে নতুন সতর্কবার্তা জারি করার একদিন পর দেশজুড়ে নতুন করে সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। অবশ্য ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে অস্থিরতার সম্পূর্ণ মাত্রা মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের পশ্চিমে কারাজে একটি পৌর ভবনে আগুন লাগানো হয়েছে এবং এর জন্য ‘দাঙ্গাবাজদের’ দোষারোপ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টিভি শিরাজ, কোম এবং হামেদান শহরে বিক্ষোভে নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের শেষকৃত্যের ফুটেজ সম্প্রচার করেছে।

লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে ২৮শে ডিসেম্বর থেকে এ বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর তা রাজনৈতিক রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা ইরানের বর্তমান ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার অবসান দাবি করছে।

তবে তেহরান কর্তৃপক্ষ এই অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে। ইরানি অধিকার সংস্থা এইচআরএনএ জানিয়েছে, বিক্ষোভে কমপক্ষে ৫০ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৫ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছে এবং প্রায় ২ হাজার ৩০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইরানের পশ্চিমাঞ্চলের এক প্রত্যক্ষদর্শী ফোনে জানিয়েছেন, রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) বা বিপ্লবী বাহিনী ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে এবং তারা গুলি চালাচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় টিভিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, গত দুই রাতে ‘সন্ত্রাসীরা’ সামরিক ও আইন প্রয়োগকারী ঘাঁটিকে নিশানা করেছে। বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তা কর্মীকে হত্যা করেছে এবং সরকারি সম্পদে আগুন দিয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের অর্জন রক্ষা এবং নিরাপত্তা বজায় রাখা একটি ‘রেড লাইন’ এবং যে পরিস্থিতি চলছে তা আর গ্রহণযোগ্য নয়।

রেভল্যুশনারি গার্ডসের পাশাপাশি ইরানের সামরিক বাহিনী, যা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সরাসরি কমান্ডে পরিচালিত হয়, ঘোষণা করেছে, তারা জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত অবকাঠামো এবং জনগণের সম্পদ রক্ষা করবে।