আন্তর্জাতিক

বিক্ষোভে উত্তাল ইরান, বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তেহরানের

ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি খুবই উত্তাল। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ গত সপ্তাহ থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে ও সহিংস হয়ে উঠেছে। 

ইরানের সাংবিধানিক পরিষদের মুখপাত্র হাদি তাহান নাজিফ এই সহিংস দাঙ্গার পেছনে বিদেশি হস্তক্ষেপকে দায়ী করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার জন্য শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সুযোগ নিয়েছে বিদেশি শক্তিগুলো। খবর তাসনিম নিউজের।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সময় হাদি তাহান নাজিফ সাম্প্রতিক সহিংস দাঙ্গায় শহীদ হওয়া বেশ কয়েকজন ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং সাধারণ নাগরিকদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিদেশি হস্তক্ষেপের পর এই সহিংস রূপ ধারণ করেছে।

তিনি জানান, কাজভিন প্রদেশে সাংবিধানিক পরিষদের একজন পর্যবেক্ষকও এই অস্থিরতার মধ্যে শহীদ হয়েছেন।

ভাঙচুরের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তাহান নাজিফ এই বিশৃঙ্খলার পেছনে ‘অদৃশ্য হাতের’ ইশারা করেন। তিনি বলেন, শত্রু পক্ষগুলো ইতিমধ্যেই ২০২৫ সালের জুনে চাপিয়ে দেওয়া ১২ দিনের যুদ্ধে এক হাজারেও বেশি ইরানির রক্তে তাদের হাত রঞ্জিত করেছে।

তিনি আরো বলেন, “বিদেশী হস্তক্ষেপ জনগণের জীবনযাত্রার মান নিয়ে করা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদগুলোকে দাঙ্গা ও অস্থিরতায় রূপান্তরিত করেছে।”

শুক্রবার সকালে এক বক্তব্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলি খামেনি বলেন, “হামলাকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট করার জন্য তেহরানসহ অন্যান্য শহরে নিজেদের দেশের স্থাপনা ধ্বংস করেছে।”

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে এক হাজারেও বেশি ইরানির রক্ত লেগে আছে।” তিনি যোগ করেন, ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি ২০২৫ সালের জুনের সেই ১২ দিনের যুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যাতে সামরিক কমান্ডার, বিজ্ঞানী এবং সাধারণ মানুষসহ এক হাজারেও বেশি ইরানি প্রাণ হারান।

তিনি এমন কিছু অসচেতন মানুষের কঠোর সমালোচনা করেন যারা মার্কিন প্রেসিডেন্টের দ্বারা প্রতারিত হয়ে ট্রাম্পকে খুশি করার জন্য বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

আয়াতুল্লাহ খামেনি পরিষ্কার করে জানিয়ে দেন যে, কয়েক লাখ মহৎ মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে গঠিত এই ইসলামি প্রজাতন্ত্র (ইরান) কখনোই হামলাকারীদের সামনে নতি স্বীকার করবে না বা বহিরাগতদের প্রতি দালালি মনোভাব সহ্য করবে না।

তিনি আরো বলেন, যখন কোনো ব্যক্তি দালালে পরিণত হয় এবং বহিরাগতদের সেবা করে, তখন সেই ব্যক্তি ইসলামি জাতি ও রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যাখ্যাত হবে।

আয়াতুল্লাহ খামেনি ইরানের যুবসমাজকে প্রস্তুতি, ঐক্য এবং রাজপথে উপস্থিতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন , একটি ঐক্যবদ্ধ ও সংহত জাতি সকল শত্রুকে পরাজিত করবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের বিক্ষোভকারীরা সরাসরি বর্তমান সরকারের পরিবর্তন এবং ধর্মীয় শাসনের অবসান দাবি করছেন।

ইরানের ৩১টি প্রদেশের সবগুলোতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তেহরান, মাশহাদ, সিরাজ এবং ইসফাহানের মতো প্রধান শহরগুলোতে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট এবং মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত অন্তত ৪৫ জন নিহত হয়েছেন। প্রায় দুই হাজারেও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে বলেছেন, “শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র আঘাত হানতে প্রস্তুত রয়েছে।”