ইরানে সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ দমনে তেহরান কঠোর অবস্থানে যাওয়ায়, দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সম্ভাবনায় ইসরায়েল ‘উচ্চ সতর্কাবস্থায়’ রয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে অবগত ইসরায়েলি তিনটি সূত্র রবিবার (১১ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বেশ কয়েকবার ইরান ইস্যুতে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। তিনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের বিষয়ে ইরানের শাসকদের সতর্ক করেছেন। সর্বশেষ গতকাল শনিবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের ‘সহায়তা করতে প্রস্তুত’।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিষয়ক পরামর্শ সভায় উপস্থিত থাকা ওই সূত্রগুলো এটি স্পষ্ট করেনি যে, ব্যবহারিক অর্থে ইসরায়েলের এই ‘উচ্চ সতর্কাবস্থা’ ঠিক কী নির্দেশ করে।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুন মাসে ইসরায়েল ও ইরান ১২ দিনের একটি যুদ্ধে জড়িয়েছিল, সেসময় যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দিয়ে ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছিল।
গতকাল শনিবার এক ফোনালাপে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানে মার্কিন হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। ওই আলোচনায় উপস্থিত থাকা এক ইসরায়েলি সূত্র বিষয়টি রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন। মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তাও কথোপকথনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তবে আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে কিছু জানাননি।
তেহরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে রয়েছে।
গত শুক্রবার ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, “ইরান যদি ইসরায়েলকে আক্রমণ করে তবে তার ফলাফল হবে ভয়াবহ। বিক্ষোভের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরো বলেন, “বাকি সবকিছুর বিষয়ে আমার মনে হয় ইরানের ভেতরে কী ঘটছে তা আমাদের দেখা উচিত।”
এদিকে আজ রবিবার (১১ জানুয়ারি), ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলার জবাবে তেহরান ইসরায়েল ও আঞ্চলিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে পাল্টা হামলা করবে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ পার্লামেন্টকে এ তথ্য জানিয়েছেন।