যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন বিশেষ বাহিনীর কমান্ডারদেরকে গ্রিনল্যান্ড আক্রমণের একটি পরিকল্পনা তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি মেইল’ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অপহরণ করার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের সাফল্যের পর, মার্কিন প্রেসিডেন্টের ট্রাম্পের প্রশাসন এবার বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চাচ্ছে, যাতে রাশিয়া বা চীন সেখানে কোনো পদক্ষেপ নিতে না পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প মার্কিন জয়েন্ট স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডকে একটি আক্রমণের পরিকল্পনা তৈরি করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন। তাদের যুক্তি হলো, এটি হবে বেআইনি এবং এর পেছনে কংগ্রেসের কোনো সমর্থন নেই।
গত শুক্রবার, গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা বলেন, “আমরা আমেরিকান হতে চাই না, আমরা ডেনিশ হতে চাই না, আমরা গ্রিনল্যান্ডার হতে চাই।” ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করার পর তারা এই মন্তব্য করেন।
শুক্রবার হোয়াইট হাউজের একটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, “তারা পছন্দ করুক বা না করুক, আমরা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কিছু একটা করতে যাচ্ছি। কারণ আমরা যদি তা না করি, তবে রাশিয়া বা চীন গ্রিনল্যান্ড দখল করে নেবে। আর আমরা রাশিয়া বা চীনকে প্রতিবেশী হিসেবে চাই না।”
তিনি আরো যোগ করেন, “আমি সহজ উপায়ে দ্বীপটি কেনার জন্য একটি চুক্তি করতে চাই, কিন্তু আমরা যদি সহজ উপায়ে এটি করতে না পারি, তাহলে আমরা কঠিন পথ অবলম্বন করব।”
ট্রাম্পের এই মন্তব্য ব্যাপক নিন্দার ঝড় তুলেছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলো সতর্ক করে বলেছে, এই ধরনের পদক্ষেপ সামরিক জোট ‘ন্যাটো’র সমাপ্তি ঘটাতে পারে।
৫৭ হাজার জনসংখ্যার গ্রিনল্যান্ড ১৯৭৯ সাল থেকে স্বায়ত্তশাসিত, তবে এর প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র নীতি ডেনমার্ক নিয়ন্ত্রণ করে। ডেনমার্ক ন্যাটো জোটের সদস্য। আর ডেনমার্কের অংশ হিসেবে গ্রিনল্যান্ডও জোটের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার আওতাভুক্ত। যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।