হিজবুত তাহরির সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে সাদ ইবনে মাহবুব নামে এক যুবককে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করেছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। এদিকে সাদ কোনভাবেই হিজবুত তাহরির সঙ্গে জড়িত নয় বলে পরিবার দাবি করেছে। তবে পরিবারের এ দাবি মানতে নারাজ পুলিশ।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাতে উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাজী রফিক রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “তাকে যখন আমরা গ্রেপ্তার করেছি তখন সঙ্গে ব্যানার-ফেস্টুন ছিল। যেখানে হিজবুত তাহরিরের পক্ষে লেখা আছে। হিজবুত তাহরির নিষিদ্ধ সংগঠন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। তদন্তে যদি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় তাহলে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আর যদি তিনি নির্দোষ হন সেভাবে তদন্ত কার্যক্রম আমরা শেষ করব।”
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) জুমার নামাজ শেষে উত্তরা সাত নম্বর সেক্টর জামে মসজিদের সামনে হিজবুত তাহরিরের কয়েকজন কর্মী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আটক করার প্রতিবাদে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে। এ সময় উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজন মুসল্লিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন সাদ ইবনে মাহবুব নামে এক যুবক। পরিবারের দাবি, সাদ কোনোভাবেই হিজবুত তাহরিরের সঙ্গে জড়িত নন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী এবং উত্তরায় জুলাই বিপ্লবে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা রাতে উত্তরা পশ্চিম থানায় গিয়ে থানার ওসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় পুলিশ একটি আকাশী নীল পাঞ্জাবি পরিহিত ব্যক্তির ছবি দেখিয়ে সাদ ওই কর্মসূচিতে জড়িত বলে দাবি করে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ছবির ব্যক্তির সঙ্গে সাদের পোশাক, চুলের কাটিং কিংবা শারীরিক গড়নের কোনো মিল নেই। আটক হওয়ার সময় সাদ শার্ট পরিহিত ছিলেন, পাঞ্জাবি নয়—এমনকি পুলিশের হেফাজতে থাকায় তার পোশাক পরিবর্তনের সুযোগও ছিল না বলে পরিবার দাবি করে।সাদের মা সিফাত জাহান বলেন, “সাদ ওই কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত নয়।” তার দ্রুত মুক্তি দাবি করেছেন তিনি।
জুলাইযোদ্ধা ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী সাদ হিজবুত তাহরিরের সাথে জড়িত নয়, হিজবুত তাহরির সন্দেহ কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরা পশ্চিম থানার ওফিসার ইনচার্জ গণমাধ্যমকে বলেন, “মামলা হয়েছে দোষী কিনা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।”
আদালত সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে সাদসহ আরো দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুল ইসলাম তাদের কারাগারে রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন চেয়ে আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো তিন আসামি হলেন শাকিল আহাম্মদ, সাদ ইবনে মাহবুব ও কাওছার হোসেন।