আন্তর্জাতিক

ইরান কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে জড়াচ্ছে

একদিকে হুমকি দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, আরেকদিকে পাল্টা হুমকি দিচ্ছে ইরান। পরিস্থিতি পুরোই টানটান। ট্রাম্পের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার জন্য প্রস্তুত, আর অপরদিকে ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য প্রস্তুত তেহরান। পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে, এবার হয়তো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে জড়াতে যাচ্ছে ইরান। 

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ইরানে অর্থনৈতিক সঙ্কটের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। শুরুতে ছোট আকারেও হলেও এখন সেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানী তেহরানসহ শতাধিক শহরে। সরকার ইতিমধ্যে ইরানের ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে। 

২ জানুয়ারি ট্রাম্প ধুম করে পোস্ট করলেন,  ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের গুলি করে এবং সহিংসভাবে হত্যা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তৈরি আছি এবং যেতে প্রস্তুত।

স্যোশাল মিডিয়ার এই হুমকি যুদ্ধে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক্স- এ লিখেছেন, ইরানের মহান জনগণ তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো হস্তক্ষেপকে সজোরে প্রত্যাখ্যান করবে। একইভাবে, আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে এবং ইরানের সার্বভৌমত্বের কোনও লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোথায় লক্ষ্যবস্তু করতে হবে তা ঠিকভাবে জানা আছে।”

ইরানের পাল্টা হুমকির পর ট্রাম্প চুপ হয়ে যান। এরই মধ্যে ইরানে বিক্ষোভ ও সহিংসতার মাত্রা বাড়তে শুরু করে। শনিবার নিউ ইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানায়, ট্রাম্পের কর্মকর্তারা ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের ব্যাপারটি বিবেচনা করছেন। তবে ট্রাম্প এখনো কোনো পদক্ষেপের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেননি। রবিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক্স-এ এক পোস্টে হুমকি দিয়ে বলেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে ছলচাতুরি করবেন না। যখন তিনি কিছু করার কথা বলেন, তখন তিনি তা-ই করেন।

এরইমধ্যে রবিবার  ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ সতর্ক করে দিয়ে যেকোনো মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের দ্রুত প্রতিশোধ নেওয়া হবে।মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজ হবে ইরানের বৈধ টার্গেট।

গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানি কর্মকর্তা ও ট্রাম্পের মধ্যে টুইট যুদ্ধ হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ইসরায়েল আঘাত হেনেছিল, পরে তাতে যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

এবারও সেই একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইরান যদি দ্রুত বিক্ষোভ সামাল দিতে না পারে, তাহলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অজুহাত তুলে ইরানে হয়তো আঘাত হানতেই পারে যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের ক্ষত এখনো সেরে উঠতে পারেনি ইরান। দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। সেই দুর্বল পরস্থিতির সুযোগ নিতে চাইতে যুক্তরাষ্ট্র। আর ইরানের শত্রু ইসরায়েল তো চাচ্ছেই যুক্তরাষ্ট্র তেহরানে হামলা করুক। হামলার উস্কানি দিতে ইতিমধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ সেরে নিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

এবার যদি ইরানে হামলা হয়, তাহলে তা হবে তেহরানের শাসকদের জন্য অস্তিত্বের লড়াই। তাই তারা কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রকে ছেড়ে কথা কইবে না সেটা ট্রাম্প প্রশাসন খুব ভালোভাবেই জানে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত  চাইবে তার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের পাশে নিয়ে ইরানের ওপর হামলা চালাতে। ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। অনুমান করাই যায়, যুক্তরাষ্ট্র ডাক দিলে তার এসব মিত্ররা হয়তো দৌড়ে আসবে হামলার জন্য। কারণ ইরানের এতো বড় তেলের ভাণ্ডারের ভাগ যদি কিছু মেলে।