ফেনীর ফুলগাজীতে এক রাতে দুটি দোকানে চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) মধ্যরাতে ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক সড়কের পাশে ফুলগাজী বাজারের রাখি জুয়েলার্স ও জালালের মুদি দোকানের দেয়াল এবং জানালার গ্রিল কেটে স্বর্ণসহ নগদ অর্থ লুট করে চোররা।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, পর্যাপ্ত পাহারাদার না থাকায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। তাদের ভাষ্য, বাজারে প্রায় এক হাজার ছোট-বড় দোকান থাকলেও পাহারাদার মাত্র ছয়জন। এতো অল্প সংখ্যক পাহারাদার দিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপদ রাখা যাচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক সড়কের পূর্ব পাশে টিএস টাওয়ারের সন্নিকটে খোলা ও নোংরা পরিবেশের কারণে সেখানে মানুষের চলাচল কম। রাতের বেলায় ওইদিকে মানুষের আনাগোনা থাকে না বললেই চলে। রাতে চোররা দেয়াল ভেঙে রাখি জুয়েলার্সে প্রবেশ করে। তারা সেখান থেকে আনুমানিক চার ভরি স্বর্ণ, প্রায় ৫০ ভরি রুপা এবং নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
ভেঙে ফেলা স্বর্ণের দোকানের সিন্দুক
একই রাতে রাখি জুয়েলার্সের উত্তর পাশে অবস্থিত জালালের মুদি দোকানের পেছনের গ্রিলের দরজা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে চোররা। তারা মুদি পণ্যসহ নগদ ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
রাখি জুয়েলার্সের মালিক বিপুল বণিক বলেন, “আমি প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে রাতে বাড়ি চলে যাই। মধ্যরাতে চুরি হলেও সন্দেহ করার মতো কাউকে শনাক্ত করা কঠিন। আমার দোকান থেকে অন্তত ১২ লাখ টাকার মালামাল ও নগদ অর্থ লুট হয়েছে।”
উপজেলা জুয়েলারি কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক সঞ্জয় বণিক বলেন, “ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরি অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি বিষয়। আমরা সঠিক তদন্ত চাই।”
ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হোসেন ভূঁঞা বলেন, “ফুলগাজীর ভেতরের বাজার ও নদীর পাড়ে জুয়ার আসর বসে। পাহারাদারদের বলেছি, মধ্যরাতে অপরিচিত বা বাহিরের কাউকে দেখলে তাকে ধরে থানায় সোপর্দ করতে।”
ফুলগাজী বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে পুরো বাজারে পাহারার কাজে ছয়জন নিয়োজিত আছেন। চুরির ঘটনা প্রশাসন তদন্ত করছে। এক্ষেত্রে বাজার পাহারাদারদের গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরো বলেন, “বিপুল সংখ্যক দোকানের বিপরীতে পাহারাদার মাত্র ছয়জন। ইউনিক ল্যাব ও ইসলামি ব্যাংকের পেছনের প্রায় ৫০০ ফুট এলাকা সম্পূর্ণ অরক্ষিত। ইসলামি ব্যাংকের সিসিটিভি ক্যামেরা উত্তরমুখী হওয়ায় দক্ষিণ পাশের এলাকা নজরদারির বাইরে রয়েছে। দক্ষিণমুখী ক্যামেরা থাকলে বিষয়টি শনাক্ত করা সম্ভব হতো।”
ফুলগাজী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল ইসলাম বলেন, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দোকানদার ও স্থানীয় বাজার কমিটির সঙ্গে কথা বলেছি। গুরুত্ব সহকারে বিষয়টির তদন্ত চলছে।”