বরগুনার পাথরঘাটায় জামায়াত ইসলামীর কয়েকজন নারী সদস্যদের ধাওয়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি কর্মীর বিরুদ্ধে। সেসময় নারী সদস্যদের বাঁচাতে গেলে এক জামায়াত নেতাকে মারধর করে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াত ইসলামী।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে চারটার দিকে পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের হারিটানা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তি হলেন পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর বাইতুলমাল সম্পাদক নাসির উদ্দিন (৪৫)। তিনি ওই এলাকার মো. শাহজাহানের ছেলে।
অভিযুক্ত বিএনপি কর্মী নুর আলম (৩৮) একই এলাকার ফজলে করিমের ছেলে এবং সদর ইউনিয়ন বিএনপির একজন কর্মী।
ঘটনার পর সোমবার রাতে লাঠি ও জিআই পাইপ জাতীয় পতাকার সাথে বেঁধে পাথরঘাটা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াত ইসলামী। মিছিলে বিএনপি ও সন্ত্রাস বিরোধী স্লোগান দেন জামায়াতের নেতা কর্মীরা।
আহত জামায়াত নেতা নাসির উদ্দিন বলেন, “প্রতিদিনের মতো জামায়াতে ইসলামীর মহিলা শাখার চারজন কর্মী দলের নিয়মিত দাওয়াতি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এলাকায় কাজ করছিলেন। এসময় তারা রুহিতা এলাকার বিএনপি কর্মী নুর আলমের বাড়ির সামনে পৌঁছালে তিনি তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে লাঠি নিয়ে ধাওয়া করেন। আমি কাছাকাছি থাকায় দৌড়ে গিয়ে নাসিরকে থামাতে চাইলে সে আমার উপরে হামলা চালায়। এসময় লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আমার পা ভেঙে দেয় নাসির।”
পরে স্থানীয়রা আহত নাসির উদ্দিনকে উদ্ধার করে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত নুর আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ছগীর হোসেন বলেন, “শুনেছি দুজনে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারামারি করেছে। একজন বেশি আহত হয়েছে, আরেকজন কম। তবে, কোন ঘটনায় এমন হয়েছে আমার জানা নেই।”
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মাসুদুল আলম বলেন, “বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতাদের সাথে পরিকল্পনা করে আমাদের নারী সদস্যদের উপর হামলা করা হয়েছে। পরে তাদের রক্ষা করতে গেলে নাসিরকেও মারধর করা হয়েছে। এটা বিএনপির আসল চরিত্র।”
এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মো. ফারুক বলেন, “গ্রামের কোন ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বকে রাজনীতিতে রূপ দিতে চাইছে জামায়াত। আমি খোঁজ নিয়েছি, যার বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগ সে বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ের সদস্যও না। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে তারা দুজন মারামারি করেছে, এখানে তৃতীয় কেউ ছিল না। সেখানে দল নিয়ে টানাটানি করছে তারা। সব জায়গায় রাজনৈতিক সুবিধা পেতেই এমন আচরণ তাদের।”
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেংলা বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”