আইন ও অপরাধ

নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে চালু হলো ‘মুন অ্যালার্ট’ ও হেল্পলাইন ১৩২১৯

নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত উদ্ধারে দে‌শে প্রথমবারের মতো চালু হলো মুন অ্যালার্ট বা মি‌সিং আর্জেন্ট নো‌টি‌ফি‌কেশন সি‌স্টেম। এছাড়াও এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে টোল ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর-১৩২১৯।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও অ্যাম্বার এলার্ট ফর বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এটি চালু করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম আরো জোরদার এবং জনসাধারণের তাৎক্ষণিক অংশগ্রহণ নিশ্চিতের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মুন অ্যালার্ট উদ্যোগের মাধ্যমে নিখোঁজ বা অপহৃত কোনো শিশুর বিষয়ে যুক্তিসংগত আশঙ্কা দেখা দিলে যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করা হবে। এই সতর্কবার্তা সিআইডির অফিসিয়াল ওয়েব পোর্টাল ও মোবাইল অ্যাপের পাশাপাশি অনলাইন ও অফলাইন সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিজিটাল বিলবোর্ড, প্রয়োজন অনুযায়ী মোবাইল এসএমএস/সেল ব্রডকাস্টিং এবং অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর মাধ্যমে প্রচার করা হবে, যাতে সাধারণ জনগণ দ্রুত তথ্য দিয়ে উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে। পুরো প্রক্রিয়ায় শিশুর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।

সিআইডি প্রধান বলেন, বিশ্বব্যাপী নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে জরুরি সতর্কবার্তা ব্যবস্থার ধারণাটি গুরুত্ব পায় ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শিশু অ্যাম্বার হ্যাগারম্যান অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর। ওই ঘটনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে চালু হয় ‘অ্যাম্বার অ্যালার্ট’ ব্যবস্থা, যা পরবর্তীতে ইউরোপের ৩২টি দেশসহ মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, চীন, নাইজেরিয়া, কেনিয়া ও পাকিস্তানসহ বহু দেশে নিজস্ব আইনগত ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক গবেষণা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, নিখোঁজ শিশুর ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক ঘণ্টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে দ্রুত ও যাচাইকৃত সতর্কবার্তা জারি করা গেলে শিশুকে নিরাপদে উদ্ধারের সম্ভাবনা বহুগুণে বেড়ে যায়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালে সিলেটে পাঁচ বছর বয়সী শিশু মুনতাহা আক্তার নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাসহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতা একটি দ্রুত, সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে তোলে।

এই বাস্তবতার আলোকে বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডির ‘মিসিং চিলড্রেন সেল’-এর নেতৃত্বে এবং ‘জিরো মিসিং চিলড্রেন প্লাটফর্ম’-এর কারিগরি ও সমন্বয় সহায়তায় প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে ‘মুন অ্যালার্ট’ ব্যবস্থা। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ সহায়তায় যুক্ত রয়েছে ‘অ্যাম্বার অ্যালার্ট ফর বাংলাদেশ’ টিম।

সিআইডি প্রধান জানান, নিখোঁজ শিশু সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, মিসিং চিলড্রেন সেল ০১৩২০০১৭০৬০ অথবা টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯ নম্বরে জানানো যাবে। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই, ঝুঁকি মূল্যায়ন ও সতর্কবার্তা জারি, স্থগিত বা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব থাকবে সিআইডির মিসিং চিলড্রেন সেল-এর ওপর। প্রয়োজন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম বা শিশু পাচারের আশঙ্কা দেখা দিলে ইন্টারপোল-এর মাধ্যমে ‘ইয়োলো নোটিশ’ জারির ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।