বিগ ব্যাশ নাকি বিপিএল, সিদ্ধান্তটা যখন রিশাদ হোসেনের কোর্টে যায় তখন প্রতিশ্রুতিশীল লেগ স্পিনার নিজের মনের কথাটাই শোনেন, ‘‘একজন লেগ-স্পিনার হিসেবে, যদি আমি এই বিদেশি লিগে খেলতে পারি, তাহলে এটা আমার জন্য এবং আমার বোলিংয়ের জন্য ভালো হবে। আমি আমার দক্ষতা উন্নত করার সুযোগ পাব। এই সিদ্ধান্ত (বিগ ব্যাশে খেলার) নেয়ার ক্ষেত্রে আরও কিছু ভাবনা কাজ করেছে। আমি নিজেকে জিজ্ঞাসা করছিলাম, আমার খেলার উন্নতির জন্য আমি কী করতে পারি। তারপর আমি ভাবলাম, যদি আমি এই লিগগুলিতে খেলতে পারি, তাহলে এটি আমার জন্য উপকারী হবে। ম্যাচগুলো বিভিন্ন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে- আমার খেলার স্বপ্নের মাঠ।’’
হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে বিগ ব্যাশে খেলার সুযোগ ২০২৪ সালেও ছিল তার। বিসিবি থেকে মেলেনি সাড়া। ২০২৫ সালে তাকে আটকায়নি বিসিবি। বিপিএল বাদ দিয়ে বিগ ব্যাশে খেলতে চলে যান রিশাদ। যেখানে এখন পারফরম্যান্সের ডানা মেলে উড়ছেন তিনি। তার দল প্রথম দল হিসেবে কোয়ালিফায়ারে উঠেছে। যেখানে রিশাদের ভূমিকা ছিল অন্যতম। ৯ ম্যাচে ৮ ইনিংসে তার উইকেট সংখ্যা ১১টি। স্পিনারদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট বাংলাদেশের এই তরুণের দখলে। বৈচিত্র্যে রিশাদ সবাইকে মুগ্ধ করেছে। বোলিংয়ে খুব বেশি টার্ণ করান না তিনি। লেগ ব্রেকে একটা নির্দিষ্ট ছক মেনে চলেন। লাইন ও লেন্থে অনড় থাকেন। গুগলি ও আর্ম বল তার শক্তির জায়গা। একাধিক ব্যাটসম্যানকে পরাস্ত করেছেন সিদ্ধহস্তে। এজন্য প্রশংসাও কুড়িয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার মাইক হাসি রিশাদকে নিয়ে বলেছেন, ‘‘আমার মনে হয় রিশাদ হোসেন খুবই প্রতিভাবান। বিশ্বকাপে ভালো করেছিল। এখানে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির একজন সে। আমার মনে হয়, রিশাদ তাদের জন্য দারুণ একটা পিক ছিল।’’
বাংলাদেশে বিপিএল খেলতে আসা ইংলিশ ক্রিকেটার মঈন আলীও তাকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন, ‘‘আমি মনে করি বিপিএল বাদ দিয়ে রিশাদের বিগ ব্যাশে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা শতভাগ সঠিক ছিল। বিপিএল মিস করাটা দুঃখজনক হলেও অস্ট্রেলিয়ায় খেলে সে যা শিখবে, তা অমূল্য। ভবিষ্যতে সে বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় সম্পদ হয়ে উঠবে।’’
রিশাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে মঈন আরও যোগ করেন, ‘‘লেগ স্পিনার হিসেবে সে এখনো তরুণ, তবে তার প্রতিভা অসাধারণ। আমার মনে হয়, সে বাংলাদেশের পরবর্তী বড় তারকাদের একজন হবে। তাকে শুধু নিজের নামটা গড়ে তুলতে হবে।’’
রিশাদকে দলে নেয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন রিকি পন্টিং। শেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩ ওভারের স্পেলে ২৩ রানে ২ উইকেট পেয়েছিলেন রিশাদ। বিশ্বকাপের ম্যাচেই রিশাদে মন মজেছিলেন হোবার্টের হেড অব স্ট্র্যাটেজি রিকি পন্টিং। পরে তাকে দলে নেন পন্টিং। তার সঙ্গে কাজ করার প্রবল আগ্রহ ছিল রিশাদের। সেই আগ্রহ নিশ্চিতভাবেই পূরণ হয়েছে বাংলাদেশের তরুণের।
হোবার্ট বিগ ব্যাশের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। গতবার হোবার্ট চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর নিজের ফেসবুকে দলকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন রিশাদ। এবার একই ছবি, একই পোস্টে নিজেকে রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রিশাদ। ঘরের মাঠে বিপিএল ছেড়ে বিশ ব্যাশে খেলার পরম আনন্দ, অভিজ্ঞতা অর্জনের সঙ্গে শিরোপার ছোঁয়া পেলে পুরো সফরটাই হয়ে উঠবে ‘পিকচার পারফেক্ট।’ হোবার্ট শিবিরে যোগ দেওয়ার আগে সেখানকার পরিবেশ নিয়ে খুব একটা ধারনা ছিল না তার। গুগলে সার্চ দিয়ে দেখিছিলেন, ‘‘গুগলে সার্চ দিয়ে দেখিছিলাম শহরটা শান্ত এবং সুন্দর।’’ হোবার্ট ছেড়ে এখন সিডনিতে রিশাদ। অপেরা হাউজ ও হারবার ব্রিজে প্রাণবন্ত সময় কাটিয়ে বড় কিছুর অপেক্ষায়।