‘জয়কালে খয় নাই, মরন কালে ওষুধ নাই’, ‘লাল রং আমার পছন্দ, খুনখারাবি আমার পছন্দ’, ‘নাম আমার টাটা, আমি মারধর দিয়ে করি মানসের চান্দি ফুটা’, ‘নাম আমার মাইকেল, পাহাড়ে পাহাড়ে চালাই সাইকেল’—এমন অসংখ্য সংলাপ দিয়ে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন ঢাকাই সিনেমার দাপুটে খল অভিনেতা মিশা সওদাগর।
শক্তিমান এই অভিনেতা সম্প্রতি রাহাত সাইফুল সঞ্চালিত ‘রাইজিংবিডি স্পেশাল’ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে হাজির হয়ে চলচ্চিত্র, সংলাপ এবং নিজের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। আলোচনার একপর্যায়ে তিনি বলেন, “আমার যত ডায়ালগ হিট হয়েছে, পৃথিবীতে কোনো আর্টিস্টের এত ডায়ালগ হিট হয়নি। এটা শুধু কথার কথা নয়—চাও তো একজন একজন করে দশটা উদাহরণও দিতে পারি।”
সংলাপ বলার ধরন ও চরিত্র নির্মাণ প্রসঙ্গে মিশা সওদাগর বলেন, “একটা নায়ককে পর্দায় সুন্দর করে তুলে ধরা হয়। কারণ নায়ক আসলে একটা প্রতীক। আমরা যখন নায়ক আর ভিলেন বলি, তখন সমাজের ভালো দিকগুলো নায়কের ভেতর তুলে ধরি, আর নেগেটিভ দিকগুলো থাকে ভিলেনের চরিত্রে। দুটোই সমাজের অংশ। আমরা নিজেরা আসল কেউ না, আমরা প্রতীক, সিম্বল। কিন্তু এই প্রতীক দিয়েই একটা ইমেজ তৈরি হয়।”
নিজের প্রস্তুতি ও শৃঙ্খলার কথা তুলে ধরে মিশা সওদাগর বলেন, “আমি যখন কাজ করি, তখন নিজের ভেতরের জায়গাটা পরিষ্কার রাখি। আমি ফুটবলার ছিলাম, অ্যাকশন পছন্দ করি, কারাতে শিখেছি, নাচ জানি। এগুলো মিলিয়েই বিশ্বাস করতাম, পর্দায় এলে চরিত্রটা স্মার্ট হবে। কিন্তু এখানে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো বিচক্ষণতা। আমি হয়তো খুব সুন্দর নায়ক নই, খুব মেধাবীও নই—কিন্তু আমি অনুশীলনরত।”
‘রাইজিংবিডি স্পেশাল’ অনুষ্ঠানে অতিথি মিশা সওদাগর
খানিকটা ব্যাখ্যা করে মিশা সওদাগর করেন, “আমি বিশ্বাস করি, সবসময় প্র্যাকটিসে থাকতে হয়। কারণ গ্ল্যামারের মৃত্যু আছে, কিন্তু চেষ্টার মৃত্যু নেই। গ্ল্যামার যেকোনো সময় চলে যাবে, কিন্তু গ্রামারটা ঠিক রাখতে হবে।”
আট শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে মিশা সওদাগর গড়ে তুলেছেন এক বর্ণাঢ্য অভিনয়জীবন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৬৬ সালের ৪ জানুয়ারি পুরান ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা।
১৯৮৬ সালে এফডিসির ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন মিশা সওদাগর। ছটকু আহমেদ পরিচালিত ‘চেতনা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকাই চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছেন।