বগুড়ার শেরপুরে ধান ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ মণ্ডল (৩৮) হত্যার মামলায় তার দুই আপন ভাতিজাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই দুজন দায় স্বীকার করে পুলিশকে জানিয়েছে, সম্পত্তির লোভে তারা চাচাকে হত্যা করেছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম আলী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন— শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ফেরদৌসের ছেলে রাকিবুল হাসান সিয়াম (১৬) ও একই এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে আতিক হাসান (২১)।
গত ১১ জানুয়ারি ভোরে ভবানীপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে আব্দুল হামিদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
শেরপুর থানার ওসি বলেছেন, আব্দুল হামিদের লাশ উদ্ধারের দিনেই তার স্ত্রী রাফিয়া বেগম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় এবং ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামতের ভিত্তিতে আমরা দ্রুততম সময়ে আসামিদের শনাক্তের পর তাদেরকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছি। এ সময় আলামত হিসেবে হত্যার কাজে ব্যবহৃত রশি ও মই উদ্ধার করা হয়েছে। ভাঙা মইয়ের টুকরোর সূত্র ধরে গ্রামের প্রতিটি বাড়ি তল্লাশি করতে গিয়ে সিয়ামের বাড়িতে ভাঙা মইটির সন্ধান পায় পুলিশ। এরপর চাচার জানাজা শেষে সিয়ামের সাথে কথা বলার সময় তার হাত-পা অস্বাভাবিক কাঁপতে থাকে। এতেই পুলিশের সন্দেহ চূড়ান্ত রূপ নেয়। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে দুই ভাতিজা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে।
ওসি বলেন, গ্রেপ্তার দুজন জিজ্ঞাসাবাদকালে পুলিশকে জানিয়েছে, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আব্দুল হামিদের কোনো ছেলে সন্তান না থাকায় বড় ভাতিজা আতিকের নজর ছিল তার সম্পত্তির ওপর। কিন্তু, ৫ মাস আগে চাচা নতুন বিয়ে করায় আতিক আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যে, যদি চাচার কোনো সন্তান হয়, তাহলে তিনি সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবেন। অন্যদিকে, ছোট ভাতিজা সিয়ামের মুরগির খামারে কিছুদিন আগে বিষ প্রয়োগ ২ হাজার ৭০০ মুরগি মারে কে বা কাহারা। সিয়ামের ধারণা ছিল, এই কাজ তার চাচা হামিদুলই করেছেন। এরকম ধারণা থেকে দুজন যোগসাজশ করে চাচা আব্দুল হামিদকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
গত ১০ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে বাড়ির পাশে বেগুনক্ষেতে আব্দুল হামিদকে একা পেয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে আতিক ও সিয়াম। এরপর গরুর দড়ি দিয়ে পেঁচিয়ে ধরা হয় চাচার গলা। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা একটি বাঁশের মই ব্যবহার করে লাশটি টেনে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায়। সেখানে নিজের জমিতে লাশ ফেলে দিয়ে আতিক চরম আক্রোশে লাথি মেরে বলেন, তোর জমি তুই নিয়ে থাক।
নিহতের স্ত্রী রাফিয়া বেগম সাংবাদিকদের বলেছেন, জমির জন্য এভাবে আপন মানুষের জান নেবে, তা কখনো কল্পনাও করিনি। তাদের উপযুক্ত বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
শেরপুর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী বলেন, আব্দুল হামিদ হত্যাকাণ্ডের সাথে আরো কেউ জড়িত আছে কি না, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে নিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।