ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের ৪টি ইউনিয়ন) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খান স্বতন্ত্র প্রার্থীকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘‘তারেক রহমান সিদ্ধান্ত নিয়ে ঝিনাইদহ-৪ আসনে আমাকে পাঠিয়েছেন। এখানে আমাকে নির্বাচন করার জন্যে বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সুতরাং আপনি যদি প্রকৃতপক্ষে জাতীয়তাবাদীর রাজনীতি করেন, তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত চ্যানেঞ্জ করলে আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’’
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের ফয়লা রোডস্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ সব কথা বলেন।
গত ২৭ ডিসেম্বর গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন রাশেদ খান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এ আসনে ধানের শীষ প্রতীক না পেয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।
রাশেদ খান বলেন, ‘‘ঝিনাইদহ-৪ আসন জাতীয়তাবাদের উর্বর ভূমি। এই ভুমিতে বিএনপির বিজয় হবে। ধানের শীষ প্রতীকের বিজয় হবে। ষড়যন্ত্র করে, চক্রান্ত করে এই বিজয় আটকানো যাবে না।’’
স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজকে ইঙ্গিত করে রাশেদ খান বলেন, ‘‘সামান্য ভুলের জন্য আমাদের কোনো ভাইয়ের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হোক, আমি সেটি চাই না। আমি চাই না, আমাদের কোনো ভাইয়ের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গৃহীত হোক। আমি চাই, সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে কাজ করতে। আমার কারোর প্রতি বিন্দুমাত্র রাগ, ক্ষোভ, অভিমান নেই।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘আমাদের সবাইকে এক হয়ে ধানের শীষ প্রতীক বিজয়ী করার জন্য কাজ করতে হবে। স্বতন্ত্র ভোট করে বিএনপির ক্ষতি ছাড়া এক বিন্দু উপকার করার সুযোগ নেই।’’
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে রাশেদ খান কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিজের জেলখাটা ও অবদানের বিষয়সহ সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীর উপর জুলুম নির্যাতন ও নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘‘কোটা সংস্কার আন্দোলন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনে পরিণত করে ফ্যাসিবাদ জুলুমবাজদের পতন হয়েছে, আর জনগণের বিজয় হয়েছে।’’
এ সময় কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক তবিবুর রহমান মিনি, সাবেক পৌর বিএনপি নেতা শামসুল ইসলাম, সাবেক ছাত্র নেতা লুৎফর রহমান লেন্টুসহ দলের বিভিন্ন পর্যারের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।