সিলেট বিভাগের চারটি জেলার মিলনস্থল মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরে শুরু হয়েছে ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। প্রতিবছর পৌষ-সংক্রান্তি (১৩ জানুয়ারি) ও নবান্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে কুশিয়ারা নদীর তীরে বসে এ মেলা।
এবার ছোট-বড় প্রায় ৪০টি মাছের দোকান বসেছে মেলায়। পাওয়া যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন ধরনের মাছ। ক্রেতা ও দর্শার্থীরা ভিড় করছেন দোকানে দোকানে।
সবমুখর পরিবেশে সোমবার (১২ জানুয়ারি) শুরু হওয়া এ মেলা মঙ্গলবার রাতে শেষ হয়। মেলা ঘুরে দেখা গেছে, হরেক রকমের মাছের পসরা নিয়ে বসে আছেন বিক্রেতারা। বাঘাইড়, বোয়াল, আইড়, চিতল, কাতল, রুইসহ সামুদ্রিক নানা জাতের মাছ। মাছ কিনতে বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছেন অসংখ্য মানুষ।
মেলায় বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইজারা প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে এবার বাইরের আড়ৎদাররা আসেননি।
ক্রেতারা জানিয়েছেন, মেলায় নানা জাতের বড় আকারের মাছ উঠেছে। দামও খুব চড়া। অনেক দরকষাকষি করে মাছ কিনতে হচ্ছে। সবাই নিজের সাধ্যমতো মাছ কিনছেন।
মাছ বিক্রেতা শহিদ মিয়া বলেন, শেরপুর শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এ মেলায় আমাদের বাপ-দাদারা ব্যবসা করত। আমরাও ব্যবসা করে লাভবান হই। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মও ব্যবসা করবে।
আরেক বিক্রেতা আরবেশ মিয়া বলেন, মেলায় বিক্রির জন্য আমি ১০ লাখ টাকার মাছ কিনেছি। সবচেয়ে বড় বাঘাইড় মাছ আমার কাছে আছে। মাছের দাম ৩ লাখ টাকা চেয়েছি। সৌখিন ক্রেতা পাইলে কম-বেশি হবে।
মুহিবুর রহমান বলেন, বাজার ইজারা নিয়ে জটিলতা থাকায় বাইরের আড়তদারদের উপস্থিতি কম। মাছ কিনতে আসা হরেন্দ্র নাথ বলেন, মেলায় মাছ কিনতে এসেছি। দর কষাকষি চলছে।
সিলেট থেকে আসা ওয়াহিদুল বলেন, এই মাছের মেলা ঐতিহ্যবাহী। প্রতিবছরই আসি। এবার মাছের দাম কিছুটা কম। ৪ কেজি ওজনের একটি বোয়াল সাড়ে ৪ হাজার টাকায় কিনেছি। এবার মেলায় বেশ সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যাচ্ছে।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব হাসান বলেন, গতকাল ৭ লাখ টাকার ওপরে বাজারের (মেলা) মূল্য নির্ধারণ করা হলেও ইজারাদাররা টাকা পরিশোধ করেননি। গতকাল বাজারের মূল্য দিতে না পারায় রিটেন্ডার করা হয়। এক দিনের জন্য ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকায় বাজারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।