ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর ভয়াবহ সহিংসতায় বিপুল প্রাণহানি ও গণগ্রেপ্তারের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ে তেহরানের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, গত ১৭ দিনে অন্তত ১ হাজার ৮৫০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এছাড়া, সরকারপন্থি ১৩৫ জন, সংশ্লিষ্ট নয় এমন ৯ জন বেসামরিক ব্যক্তি এবং ৯ শিশুর মৃত্যুর তথ্যও তারা নিশ্চিত করেছে। ইন্টারনেট বন্ধ থাকার মধ্যেও এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
একজন ইরানি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, নিহতের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। তবে তাঁর দাবি, এসব মৃত্যুর জন্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়ী।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “হত্যাকাণ্ডের মাত্রা উল্লেখযোগ্য বলে মনে হচ্ছে, তবে এখনো সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সঠিক তথ্য পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।”
এর আগে ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, “ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের হত্যার জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।” জনগণকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি লেখেন, “হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করা হয়েছে। সহায়তা আসছে।”
দেশটির ১৮০টি শহরে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভ শুরু হয় ইরানি মুদ্রার দরপতন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে। পরে তা রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নেয় এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর শাসক ব্যবস্থার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করে। কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়ে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করে বিক্ষোভ দমন করে।
নরওয়েভিত্তিক সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানিয়েছে, তারা অন্তত ৭৩৪ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির মতে, প্রকৃত সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছাতে পারে