শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলেই চলবে না, দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য অর্থনৈতিক গণতন্ত্রও নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, অর্থনীতিতে সকল শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে না পারলে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-তে বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ, প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ) আয়োজিত এক প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যবসা করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। কিছু সীমিতসংখ্যক অসাধু ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর দুর্নীতি এবং পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতির কারণে সাধারণ ও সৎ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ব্যবসা-বাণিজ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমি ছাড়া দেশের অর্থনীতি এগোবে না। তাই শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র নয়, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রও প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে সব উদ্যোক্তার জন্য সমান সুযোগ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়।
তিনি আরো বলেন, ইজ অব ডুয়িং বিজনেস ও কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস- এই দুই বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে সংস্কার করতে হবে। ব্যবসা সহজ করা ও ব্যয় কমানোর জন্য সরকার এককভাবে সবকিছু করতে পারবে না। এক্ষেত্রে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। ক্যাপাসিটি বিল্ডিং না হলে সরকারের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাবেক এই বাণিজ্যমন্ত্রী তার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, অতীতে ইউডি সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যবসায়ী সংগঠনের মাধ্যমে সম্পন্ন করায় হয়রানি কমেছে এবং দক্ষতা বেড়েছে। ভবিষ্যতেও বন্ড সুবিধা, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি ও অন্যান্য প্রক্রিয়া আরো সহজ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
প্যাকেজিং শিল্পের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, এই খাতে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের জন্য বিশাল সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হলেও তা ভবিষ্যতে ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব। আধুনিক ও মানসম্মত প্যাকেজিংয়ের চাহিদা বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে, যা কাজে লাগাতে উদ্যোক্তাদের প্রস্তুত হতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি ব্যক্তিখাতনির্ভর অর্থনীতিতে বিশ্বাস করে এবং ভবিষ্যতেও ব্যবসাবান্ধব নীতি অব্যাহত থাকবে। তবে এজন্য ব্যবসায়ীদের মধ্যেও সততা, স্বচ্ছতা ও স্ব-নিয়ন্ত্রণ জরুরি। পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ব্যবসা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
শেষে তিনি বলেন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন অর্থহীন। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হবে।