‘পৌষ পার্বণের এই লগ্নে, বাংলা বিভাগ টানে পিঠার ঘ্রাণে’ এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের উদ্যোগে ‘পৌষ পার্বণ ১৪৩২’ উদযাপিত হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাডমিন্টন কোর্টে বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কেক কেটে এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
শীতের আমেজে বাঙালির পিঠা-পুলির ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই বিশেষ আয়োজন। উৎসবে প্রধান আকর্ষণ ছিল গ্রাম-বাংলার বৈচিত্র্যময় সব পিঠার সমাহার। মালপোয়া, পায়েস, পাটিসাপটা থেকে শুরু করে নানা পদের দেশিয় পিঠার ঘ্রাণে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো উৎসব প্রাঙ্গণ।
পৌষ পার্বণ অনুষ্ঠান নিয়ে বাংলা ভাষা-সাহিত্য পরিষদের সহ-সভাপতি এমদাদুল হক বলেন, “পৌষ মাস বাঙালি সংস্কৃতির এক অনন্য সময়। শীতের হিমেল হাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন ধানের সুবাস, পিঠা-পুলির স্বাদ এসব মিলিয়ে পৌষ আমাদের জীবনকে করে তোলে আরো রঙিন। বাঙালিয়ানা সংস্কৃতিকে তোলে ধরাই এই পৌষ পার্বণের লক্ষ্য। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা বিভাগের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যুক্ত হবে এক নতুন মাত্রা ও প্রাণবন্ততা।”
অনুষ্ঠানে ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ও বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম বলেন, “শীত ঋতু চমৎকার একটি ঋতু। আমরা বাংলা বিভাগের পক্ষ থেকে প্রথমবারের আয়োজন করেছি ‘পৌষ পার্বণ-১৪৩২’। এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করার একটাই লক্ষ্য, আমাদের যে একটা নিজস্ব সংস্কৃতি, নিজস্ব আতিথিয়েতার ধরন রয়েছে তা আমরা নিজের বিভাগে চর্চা করতে চাই।”
বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান মিলকী বলেন, “বাংলা বিভাগের আয়োজনে আজ ‘পৌষ পার্বণ’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পৌষ পার্বণ মূলত বাঙালির একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। পৌষের শেষ দিনে বাংলার ঘরে ঘরে পিঠা পায়েসের আয়োজন হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজকে বাংলা বিভাগ পরিবারের পক্ষ থেকে এই পৌষ পার্বণের আয়োজন করা হয়েছে। যেটি বাঙালির চিরন্তন ঐতিহ্যকে ধারণ করে।”
এছাড়াও, পৌষ পার্বণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলাম মাওলা, অধ্যাপক ড. জি.এম. মনিরুজ্জামান, অধ্যাপক ড. তসলিমা খাতুন, অধ্যাপক ড. মো. মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রেজাউল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ড. সুমাইয়া আফরীন সানি, সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম এবং বিভাগের কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে পিঠা উৎসবের পাশাপাশি সন্ধ্যায় বাঙালিয়ানা গানের আড্ডার আয়োজন করা হয়েছে।