আনুষ্ঠানিকভাবে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি শুরু করল যুক্তরাষ্ট্র। প্রথম চালান থেকেই প্রায় ৫০ কোটি ডলার আয় করেছে ওয়াশিংটন। আরো তেল বিক্রির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে। এর পর থেকেই দেশটির বিপুল তেল সম্পদ কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথা স্পষ্টভাবে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার তিনি বলেন, “ভেনেজুয়েলার ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি খাত পুনর্গঠনে তেলশিল্প অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।” তবে এই বিনিয়োগের অঙ্ক কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
তবে ভেনেজুয়েলার তেল খাত ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক বৈঠকে ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগের ঝুঁকি ও প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন তারা।
এক্সনমোবিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড্যারেন উডস বৈঠকে বলেন, “এই মুহূর্তে ভেনেজুয়েলা বিনিয়োগের উপযোগী নয়। বিনিয়োগে কী ধরনের মুনাফা পাওয়া যেতে পারে, তা বোঝার আগেই বহু আইনগত ও বাণিজ্যিক কাঠামো তৈরি করতে হবে।”
একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন আরো কয়েকটি বড় তেল কোম্পানির নির্বাহীরা। দীর্ঘ বৈঠক শেষে ট্রাম্প ও তাঁর শীর্ষ সহযোগীরা ভেনেজুয়েলায় বড় অঙ্কের বিনিয়োগের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান প্রতিশ্রুতি আদায় করতে পারেননি বলে জানা গেছে।
এদিকে, প্রথম তেল বিক্রির সুনির্দিষ্ট শর্ত ও ক্রেতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দল ভেনেজুয়েলার তেল অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে নজিরবিহীন বিনিয়োগ করতে আগ্রহী ও প্রস্তুত তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ইতিবাচক ও ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।”
অন্যদিকে বুধবার রয়টার্স জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে কানাডাসহ অন্যান্য দেশের তেলের তুলনায় কম দামে ব্যবসায়ীদের কাছে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল বিক্রির প্রস্তাব করা হচ্ছে। এতে দ্রুত তেল বিক্রি ও বাজারে জায়গা করে নেওয়ার কৌশলই প্রতিফলিত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।