সারা বাংলা

শরীয়তপুরে দুইশ বছরের জোড় মাছের মেলা 

প্রতিবারের মতো শরীয়তপুরের মনোহর বাজারে বসেছে ঐতিহ্যবাহী জোড় মাছের মেলা। পহেলা মাঘে অনুষ্ঠিত এই মেলার বয়স অন্তত দুইশ বছর। মেলার প্রধান আকর্ষণ জোড়া ইলিশ মাছ ও বেগুন।

শুরুর দিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্যোগে এই মেলা বসলেও সময় পরিক্রমায় এখন হিন্দু-মুসলিম সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে এটি। তবে এ বছর ইলিশের দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন। 

স্থানীয়রা জানান, শরীয়তপুর সদর উপজেলার মধ্যপাড়া এলাকার কালীমন্দির মাঠে মাঘের শুরুর দিন থেকে এই মেলা বসে। মেলায় আসা মানুষ ঘরে ফেরেন জোড়া ইলিশ আর জোড়া বেগুন নিয়ে—এ কারণেই এর নাম ‘জোড় মাছের মেলা’। মেলা ঘিরে শিশুদের আগ্রহ লক্ষ্য করার মতো। বড়দের সঙ্গে মেলায় এসে মিষ্টি খাওয়া, রঙ-বেরঙের বেলুন ও খেলনা কেনা—সব মিলিয়ে দিনটি ঘিরে এলাকায় তৈরি হয় উৎসবের আমেজ।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই খোলা মাঠে চৌকি পেতে ডালায় সাজানো ইলিশ নিয়ে বসেছেন মাছ বিক্রেতারা। পাশেই বসে সবজি, খেলনা ও নানা খাবারের দোকান। কনকনে শীত উপেক্ষা করে ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে জমে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ।

স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল সাহা বলেন, ‘‘ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে মেলায় আসতাম। এখন সন্তানদের নিয়ে আসি। এই মেলা আমাদের ঐতিহ্য। মাঘের শুরুতে জোড়া ইলিশ আর জোড়া বেগুন না কিনলে যেন উৎসব পূর্ণ হয় না।’’

মেলায় আসা সৌম্য দাস বলেন, ‘‘প্রতিবারের মতো এবারও মেলা বসেছে। এলাকায় উৎসবের আমেজ। বাচ্চারা খেলনা কিনছে, খাবারের দোকান থেকে কিনছে পছন্দের খাবার। তবে এ বছর মাছের দাম একটু বেশি।”

আরেক দর্শনার্থী ফরিদ বেপারী বলেন, “শৈশব থেকেই দেখে আসছি মাঘের শুরুতে এখানে মাছের মেলা বসে। আমরা সবাই মিলে মেলায় আসি, ইলিশ কিনি। সবার অংশগ্রহণেই মেলাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।’’

বাপ-দাদার আমল থেকে বংশানুক্রমে মেলায় মাছ বিক্রি করে আসছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। মেলা উপলক্ষে মাত্র তিন ঘণ্টায় কয়েক লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয় বলে জানান তারা।

মাছ ব্যবসায়ী গৌতম দাস বলেন, “আমার বাবা ও দাদাও এখানে মাছ বিক্রি করতেন। এখন আমি করি। ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত মেলা চলে। এই কয়েক ঘণ্টায় অন্তত ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয়। দাম ভালো পাওয়ায় আমরা খুশি।”

আয়োজকরা জানান, এই মেলা শুধু বাণিজ্যিক নয়, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিরও প্রতীক। 

মেলার আয়োজক কমিটির সদস্য সুজিত দাস বলেন, ‘‘জোড় মাছের মেলা হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। একসময় এটি হিন্দু সম্প্রদায়ের হলেও এখন সবাই অংশ নেয়। আমরা ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে মেলাটির আয়োজন করবো।’’