অর্থনীতি

সর্বাধিক রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে

বাংলাদেশে প্রবাসী আয় দিন দিন বাড়ছে। এতে স্বস্তির হাওয়া বইছে অর্থনীতিতে। চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের নভেম্বর মাসে রেমিট্যান্স পাঠানোর শীর্ষ দেশের তালিকায় উঠে এসেছে সৌদি আরব। এ দেশ থেকে প্রবাসীরা বৈধ পথে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ছয় মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৬২৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। শুধু নভেম্বর মাসে এসেছে ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। ওই মাসে সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ৪৩ কোটি ৮ লাখ টাকা। জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে সৌদি আরব থেকে পাঠানো হয়েছে ৪১০ কোটি টাকা। 

রেমিট্যান্স পাঠানোর দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) । গত নভেম্বরে দেশটি থেকে ৪০ কোটি ১২ লাখ টাকা রেমিট্যান্স এসেছে। গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ৩১৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় আছে—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ওমান, ইতালি, কুয়েত, কাতার এবং সিঙ্গাপুর। 

রেমিট্যান্সপ্রাপ্তিতে এগিয়ে ঢাকা বিভাগ অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, নভেম্বর মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে ঢাকা বিভাগে। মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৫১ শতাংশ এসেছে এই বিভাগে। দ্বিতীয় অবস্থানে চট্টগ্রাম বিভাগ এবং তৃতীয় অবস্থানে সিলেট বিভাগ। জেলাভিত্তিক হিসাবেও ঢাকার অবস্থান শীর্ষে। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও সিলেট জেলা।

ব্যাংকগুলোর ভূমিকা নভেম্বর মাসে রেমিট্যান্স আহরণে শীর্ষে আছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। এর পর আছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংক। বেসরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে দেখা গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রেমিট্যান্স বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে, ব্যাংকিং খাতে তারল্য বাড়ছে এবং আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা বাড়ছে। একইসঙ্গে প্রবাসী পরিবারের জীবনমান উন্নয়নেও এ অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রবাসীদের জন্য প্রণোদনা, বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানোর সুবিধা এবং ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকলে ভবিষ্যতেও রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক থাকবে।