বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) দফায় দফায় আলোচনার সুফল মিলতে যাচ্ছে। সব ধরণের ক্রিকেট বর্জনের ডাক দেওয়া ক্রিকেটাররা শর্ত দিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করছেন। ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে মাঠে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন সকল পেশাদার ক্রিকেটাররা। এজন্য শর্ত জুড়ে দিয়েছেন তারা।
বিতর্কিত পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে পদত্যাগের সিদ্ধান্তে ক্রিকেটাররা অনড়। এজন্য ক্রিকেট বোর্ডকে প্রক্রিয়াগত সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাঝে নাজমুলকে প্রকাশ্যে এসে ক্ষমা চাইতে হবে তার কটূক্তির জন্য। যদিও বিসিবি এই শর্ত মানতে পারবে না বলে জানিয়েছেন। তবে শোনা যাচ্ছে, ক্রিকেটারদের কাছে নাজমুল ক্ষমা চেয়েছেন। প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে পারবেন না।
কোয়াব বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশ ক্রিকেটের জটিলতা নিয়ে আমাদের নিজেদের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে। আমরা ক্রিকেটাররা আলোচনা করে উপলব্ধি করতে পেরেছি, আমাদের নারী জাতীয় দল এখন এখন বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে খেলছে নেপালে, ছেলেদের জাতীয় দলের সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ দল দল এখন বিশ্বকাপে আছে, সব ধরনের খেলা বন্ধ করার প্রভাব এই দলগুলোর ওপর পড়তে পারে। বিপিএলকেও আমরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে আমরা তাই আমাদের আগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেছি।
এর আগে, দুপুরে বিসিবি নাজমুলকে আনুষ্ঠানিকভাবে শোকজ করে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। বিকেলে তাকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করা হয়।
বিসিবি জানায়, সাম্প্রতিক ঘটনার প্রেক্ষিতে এবং সংস্থার বৃহত্তর স্বার্থে অর্থ বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুলকে সকল দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
বিসিবির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে কোয়াব বলছে, ‘‘বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। যেহেতু তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তার পরিচালক পদ নিয়ে প্রক্রিয়াগত কারণে যেহেতু বিসিবি সময় চেয়েছে, সেই সময়টুকু আমরা দিতে চাই। তবে আশা করব, সেই প্রক্রিয়া চলতে থাকবে।’’
তবে তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং পরিচালক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে যাচ্ছে না কোয়াব, ‘‘পাশাপাশি, পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম যেহেতু প্রকাশ্যে ক্রিকেটারদের নিয়ে অপমানজনক কথা বলেছেন, তিনি প্রকাশ্যেই ক্ষমা চাইবেন বলে আমরা আশা করি। বিসিবিকে আমরা জানিয়ে দিয়েছি, তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলে ও তার পরিচালক পদ নিয়ে প্রক্রিয়া চলমান থাকলে আমরা শুক্রবার থেকেই খেলায় ফিরতে প্রস্তুত।’’
অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শুরু হয় বুধবার বিকেলে। বিশ্বকাপ খেলতে না গেলে ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না বুধবার এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল বিসিবি পরিচালক নাজমুলকে।
ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রশ্ন স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। উল্টো প্রশ্ন তুলেছেন, ক্রিকেটারদের পেছনে যে খরচ হয়, তার প্রতিদান ক্রিকেটাররা দিতে পেরেছে কি না!
গণমাধ্যমে নাজমুল বলেন, ‘‘কেনো? (ক্ষতিপূরণ দিতে হবে)। ওরা যদি কিছুই না করতে পারে (কোনো টুর্নামেন্টে), ওদের পেছনে যে আমরা কোটি কোটি টাকা খরচ করছি ওই টাকা কি ফেরত চাই? এই প্রশ্নের উত্তর দেন আমাকে। বিশ্বকাপ না খেললে ক্ষতি পূরণ কেন দেব!’’
এর আগে, এই পরিচালক জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে, ‘ভারতীয় দালাল’ বলেছিলেন। পরে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন গণমাধ্যমে। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি ক্রিকেটারদের নিয়ে কটূক্তি করেছেন।
তার বক্তব্যে বিস্মিত হয়েছেন অনেকেই। ক্রিকেটাররা পেয়েছিলেন কষ্ট। ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে বুধবার রাতে জুম সভায় খেলা বর্জনের ডাক দেন।
কোয়াবের পরিচালক মোহাম্মদ মিঠুন বলেন, ‘‘আমাদের বোর্ড পরিচালক যেই কথাটা বলেছেন, এটা আমাদের ক্রিকেট অঙ্গনকে খুবই হার্ট করেছে। এটা গ্রহণযোগ্য নয়। বোর্ড পরিচালক যেই শব্দগুলো ব্যবহার করছে সেগুলো খেলোয়াড়রা গ্রহণ করতে চাচ্ছে না। সেজন্য আমরা এই মুহূর্তে তার পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছি। উনি যদি আগামীকাল ম্যাচের আগে রিজাইন না করে তাহলে আমাদের সব ধরণের খেলা বর্জনের ডাক দিচ্ছি।’’
এরপর রাতেই ক্রিকেট বোর্ডের তিন পরিচালক ক্রিকেটারদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন ক্রিকেটাররা। আজ বিপিএলের দুইটি ম্যাচই বয়কট করেন তারা। সন্ধ্যায় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল উদ্যোগী হয়ে ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলেন। একাধিক সভা করেন ক্রিকেটারদের নিয়ে। দফায় দফায় আলোচনার পর দুই পক্ষ কিছুটা নমনীয় হয়েছে।
ক্রিকেটাররা বোর্ডকে সময় দিয়েছে। পাশাপাশি নাজমুল ইসলামকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার শর্ত দিয়েছে। তিনি ক্ষমা চাইলে কালই মাঠে দেখা যেতে পারে বিপিএল। নয়তো খেলা বর্জন চলতে থাকবে।