ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। এই লড়াইয়ে অংশ নিতে যাওয়া জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত তিন প্রার্থীর নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এক চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া গেছে।
উচ্চশিক্ষার দৌড়ে ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়ে প্রার্থীরা অনেকটা এগিয়ে থাকলেও, ব্যক্তিগত সম্পদের হিসেবে তারা বেশ সাধারণ জীবনযাপনের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী ড. মো. কেরামত আলী শিক্ষাগত যোগ্যতায় অনন্য উচ্চতায় থাকলেও সম্পদের দিক থেকে তিনি একেবারেই মিতব্যয়ী। অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে নূরুল ইসলাম বুলবুলের নগদ অর্থের পরিমাণ যেমন আলোচনায় এসেছে, তেমনি প্রতিটি প্রার্থীর কাঁধেই রয়েছে রাজনৈতিক মামলার দীর্ঘ ফিরিস্তি।
দাখিলকৃত হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমীর ড. মো. কেরামত আলী। শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি এলাকার অন্য সব প্রার্থীর চেয়ে অনন্য উচ্চতায়। তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রিধারী। পেশায় একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হলেও তার আর্থিক জীবন অত্যন্ত সাদামাটা। তার আয়ের প্রধান উৎস কৃষি এবং বাড়ি ভাড়া।
হলফনামা অনুযায়ী, কৃষি খাত থেকে বছরে তার আয় মাত্র ৬০ হাজার টাকা এবং বাড়ি ভাড়া থেকে আসে ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে তার অর্জিত ও পৈত্রিক সম্পত্তির বর্তমান আনুমানিক ক্রয়মূল্য প্রায় ৮৫ লাখ টাকা বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্পদে সাধারণ হলেও রাজনৈতিক কারণে তার আইনি লড়াইয়ের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ; বর্তমানে পাঁচটি মামলা বিচারাধীন থাকলেও এর আগে তিনি ১৯টি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) আসনে প্রার্থী হয়েছেন ড. মু. মিজানুর রহমান, যিনি নিজেও একজন পিএইচডি ডিগ্রিধারী। বর্তমানে শিক্ষকতা পেশার সাথে যুক্ত মিজানুর রহমানের আর্থিক অবস্থা বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। তার বার্ষিক আয় কৃষি থেকে ২ লাখ এবং ব্যবসা থেকে ১ লাখ টাকা। তার নামে নগদ ২ লাখ টাকা এবং ব্যাংকে ১০ লাখ টাকার বেশি আমানত রয়েছে। স্থাবর সম্পদের তালিকায় রয়েছে ১১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা মূল্যের কৃষি জমি এবং পুরাতন প্রসাদপুরে ১০ লাখ টাকা মূল্যের একটি আবাসিক ভবন। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে মাত্র দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, যিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। উচ্চশিক্ষায় তিনি এম.এস.এস পাশ। হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে তার কাছে বর্তমানে ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ অর্থ জমা আছে। সব মিলিয়ে তার নামে আনুমানিক ৮১ লাখ ৭৭ হাজার ১৭০ টাকার সম্পদ। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে ৫টি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরো ৩৮টি মামলা ছিল। সেসব মামলা প্রত্যহার, খালাসের পাশাপাশি নিষ্পত্তিও হয়েছে। সার্বিকভাবে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই তিন প্রার্থীর হলফনামায় শিক্ষার আভিজাত্য এবং রাজনৈতিক সংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠেছে। ভোটারদের কাছে ডক্টরেট ডিগ্রির মর্যাদা আর মামলার চরাই-উত্তরাইয়ের পথ পেরিয়ে তারা কতটা গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেন, তা-ই এখন দেখার বিষয়।