লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ ম্যাসাজ — শরীর ও মনকে হালকা করে তোলার দারুণ একটি উপায়। সেলফ-কেয়ারের রুটিনে এই ম্যাসাজ যোগ করে নিতে পারেন। এই ম্যাসাজ সাধারণত নিরাপদ, কিন্তু ভুলভাবে করলে লিম্ফ ভেসেল যা শরীরের টিস্যুর সংঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে-সেটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ‘লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ ম্যাসাজ’ এর সঠিক পদ্ধতি জেনে নিন।
লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ ম্যাসাজ কী
লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ ম্যাসাজ সিস্টেম হচ্ছে শরীরের একটি ডিটক্স সিস্টেম—এটা টক্সিন, অতিরিক্ত পানি ও বর্জ্য পদার্থকে ধ্বংস করতে পারে। এই পদ্ধতি শরীরে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ না করে হালকা ও মন্থর গতিতে ম্যাসাজ করা হয়ে থাকে। ফলে নার্ভ সিস্টেম স্বাভাবিক গতিতে কাজ করতে পারে। লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ ম্যাসাজ করালে মুখ ও পেটের ডিপ ভিজন ব্লোটিং ফাঁপাভাব কমে যায়, শারীরিক শক্তি বাড়ে; ইমিউন সাপোর্ট উন্নত হয়। এ ছাড়াও ত্বক হয় আরও উজ্জ্বল, সতেজ।
সাধারণ বডি অয়েল বা ক্রিম দিয়ে এই ম্যাসাজ করা হয়। কোন ক্রিম না থাকলে হাতেই করা যাবে ম্যাসাজ। শরীরের ওপরের অংশে যেভাবে ‘লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ ম্যাসাজ’ করা যাবে:
প্রথম ধাপ
কাঁধের নিচের অংশে হালকা চাপ দিয়ে শুরু করুন তারপর ডান হাত দিয়ে ডান বগল এ ৩ বার চাপ দিন, তারপরে বাম হাত দিয়ে বাম বগলে চাপ দিন।
দ্বিতীয় ধাপ
এ পর্যায়ে কাঁধ থেকে বাহুর দিকে বালিশের মতো হালকা স্পর্শে চাপ দিন। এবার পেটের মাঝখানে উরু হাড়ের মাঝখানে হাত রাখুন এবং নাভির চারদিকে ৫টি গোল করে ঘুরিয়ে নিন।
তৃতীয় ধাপ
সব শেষে একটু পেটের ত্বক পিন্চ করুন যতক্ষণ না তা হালকা গোলাপী হয়৷
১৫-২০ মিনিট ধরে ম্যাসাজ নিতে পারেন। যারা বাড়িতে করেন তারা সপ্তাহে ৩-৫ দিন এই ম্যাসাজ নিতে পারেন। যদি প্রফেশনাল কারও কাছ থেকে ম্যাসাজ গ্রহণ করেন—তাহলে সপ্তাহে একবারই যথেষ্ট।ম্যাসাজের পর পর্যাপ্ত পানি পান করুন। চিনিযুক্ত খাবার, অ্যালকোহল, গ্লুটেন ও সোডিয়াম কম খান। দুই দিন পর্যন্ত অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করবেন না।
সার্জারির পরে ম্যাসাজ নিতে হরে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। অথবা পেশাদার থেরাপিস্টের কাছে যেতে হবে।
সূত্র: ভোগ ইন্ডিয়া