নব্বই দশকে টেলিভিশন নাটকের জনপ্রিয় মুখ আফসানা মিমি এখন আর অভিনয়ে অতটা সরব নন। চলচ্চিত্রে অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও লাভ করেছেন। এখন মাঝে মধ্যে ওটিটিতে কাজ করছেন। নির্মাণেও হাতে দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। কয়েক দশকের অভিনয় ক্যারিয়ারে ঢের যশ-খ্যাতি কুড়িয়েছেন আফসানা মিমি।
কয়েক দিন আগে একটি টিভি অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন মিমি। এ আলাপচারিতায় সঞ্চালক জানতে চান, এখন পর্যন্ত যে স্বপ্নগুলো পূরণ হয়েছে, সেসব বিবেচনা করে আপনার কী মনে হয় আপনি সফল? জবাবে আফসানা মিমি বলেন, “আমি খুব সচেতনভাবে সফল হয়েছি তা বলব না। আমার কাছে মনে হয়, আমি খুব ভাগ্যবান।”
কেন ভাগ্যবান, তা ব্যাখ্যা করে আফসানা মিমি বলেন, “এই যে আমি তোমার সামনে বসে কথা বলছি। তুমি আমার কথা শুনছো, তোমার মাধ্যমে আমার কথাগুলো আরো অনেকে শুনছেন। আমাকে মানুষ চেনে বা ভালোবাসেন। এটা একজন মানুষের জীবনে অনেক বড় একটা প্রাপ্তি। এ ক্ষেত্রে যদি বলো, তবে আমি খুবই সফল।”
১৯৬৮ সালের ২০ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন আফসানা মিমি। ছোটবেলায় ডাক্তার কিংবা লেখক হতে চেয়েছিলেন। যদিও তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। বরং ৩৬ বছর আগে ‘দর্পণ’ নাটক দিয়ে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে পথচলা শুরু করেন আফসানা মিমি। এ দলের হয়ে ‘খাট্টা তামাশা’, ‘নূরলদীনের সারাজীবন’, ‘দেওয়ান গাজীর কিস্সা’ প্রভৃতি মঞ্চনাটকে কাজ করেন। কিছু দিন প্রাচ্যনাটেও কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী।
১৯৯০ সালে ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে বকুল চরিত্রে অভিনয় করে দারুণ জনপ্রিয়তা লাভ করেন আফসানা মিমি। এর মাধ্যমে টিভি নাটকে তার অভিষেক ঘটে। পরবর্তীতে অসংখ্য টিভি নাটক উপহার দিয়েছেন। তার উল্লেখযোগ্য টিভি নাটকগুলো হলো—‘ডল’স হাউজ’, ‘বউ কথা কও’, ‘মেঘলা মানুষ’, ‘বিশ্বাস ও ভালোবাসা’ প্রভৃতি।
আফসানা মিমি
টিভি নাটকে পা রাখার কিছু দিন পরই চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে আফসানা মিমির। ১৯৯২ সালে আজিজুর রহমান পরিচালিত ‘দিল’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয় তার। তারপর ‘নদীর নাম মধুমতী’ (১৯৯৪), ‘চিত্রা নদীর পারে’ (১৯৯৯), ‘প্রিয়তমেষু’ (২০০৯), ‘পাপ-পুণ্য’ (২০২২) প্রভৃতি সিনেমায় অভিনয় করেন। ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও অভিষেক ঘটেছে মিমির। এ মাধ্যমে তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য কাজ হলো—‘নিখোঁজ’, ‘মহানগর টু’ প্রভৃতি।