ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, “শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলা নিয়ে এত টালবাহানা কেন? রাষ্ট্রকে আমরা অনুরোধ করতে চাই, রাষ্ট্র যদি হাদি হত্যার বিচার করতে না পারে, তাহলে আমরা নির্বাচন চাই না। তবে আমরা নির্বাচনের বিরোধী নই।”
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল-পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
জাবের বলেন, “আমরা পুলিশের দেওয়া চার্জশিট মানি না। যারা হাদি হত্যার বিচারের সাথে জড়িত তাদের বিচার না করা পর্যন্ত আমরা এমন চার্জশিট মানি না। গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সবাই জানে খুনের পিছনে কারা আছে কিন্তু তারা এটা নিয়ে টালবাহানা করছে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমরা কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না।”
“আরেকবার লড়াই হবে রাষ্ট্র বনাম জনতা। পল্টন থানা থেকে আজ পর্যন্ত হাদি হত্যা মামলার কপি আমাদেরকে দেওয়া হয় নাই। আমাদের সাথে আলোচনা না করে তারা মিডিয়ার সামনে মামলার চার্জশিট প্রকাশ করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না, উপদেষ্টা ও প্রশাসন একে অন্যকে দায় দিয়ে মুক্তি পেতে চাচ্ছে,” বলেন জাবের।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে আজাদি লড়াই কখনো থামবে না। হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত না করা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন কর্মসূচি বন্ধ করব না। খুনি হাসিনাসহ সকল সন্ত্রাসীকে ভারত ফেরত না দিলে ভারতের কোনো সন্ত্রাসী আমরা ফেরত দেব না।”
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব বলেন, “ছাত্র উপদেষ্টারা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে নীরব হয়ে গেছেন, বিচারের দাবিতে কাউকে মাঠে দেখা যায় না। যারা সামনে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাবেন, তাদের বলছি- ওসমান হাদির বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। আপনার দলের নেতারা অপকর্মে জড়িত হলে তাদের বিচার করা হয় না, কেন? শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে আপনার দলের লোকেরা কেন কটূক্তি করে, আপনি তার কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?”
“যতক্ষণ পর্যন্ত ভারত আর আমেরিকাসহ যারা এদেশে আধিপত্যবাদ কায়েম করতে চায়, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে যাব,” যোগ করেন জাবের।
এসময় উপস্থিত ছাত্র-জনতাকে ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’, ‘আমার ভাই মরল কেন, ইন্টিরিম জবাব দে’, ‘ঢাকা না দিল্লি, ঢাকা ঢাকা’, ‘জাহাঙ্গীরের গদিতে, আগুন জ্বালাও একসাথে’, ‘আমরা সবাই হাদি হব, গুলির মুখে কথা কব’, ‘লীগ ধর, জেলে ভর’, ‘আওয়ামী লীগের চামড়া, তুলে নেব আমরা’, ‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ হাদি ঘরে ঘরে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।