অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, “বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন বন্দি ও গুরুতর অসুস্থ ছিলেন, তখন তার পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলার জন্য চার জনের বেশি মানুষ খুঁজে পাওয়া যায়নি।”
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়া স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ নজরুল বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া যখন জীবিত ছিলেন এবং বন্দিদশায় ছিলেন, তখন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার পক্ষে কথা বলার সুযোগ তার হয়েছে। কিন্তু সে সময় তার পক্ষে কথা বলার মানুষ পাওয়া যেত না।”
তিনি বলেন, “আমি নিজে দেখেছি, তার বিরুদ্ধে একটি উদ্ভট ও জঘন্য বিচার হয়েছে। একজন আইন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি বলতে পারি, এত জঘন্য বিচার খুব কমই দেখা যায়।”
তিনি আরো বলেন, “ওই মামলায় বেগম খালেদা জিয়া এতটাই বিস্মিত হয়েছিলেন যে, তিনি অন্যপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য শুনে ব্যথিত হয়ে বলেছিলেন—তিনি এতিমের টাকা আত্মসাৎ করেছেন! অথচ বিচারক এটিকে এমনভাবে রায়ে লিপিবদ্ধ করেন যেন তিনি নিজেই অপরাধ স্বীকার করেছেন।”
আসিফ নজরুল অভিযোগ করেন, “এই বিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেওয়ার জন্য তিনি বহু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু চার জনের বেশি মানুষ রাজি হননি।”
তিনি বলেন, “হাইকোর্টে কী করা উচিত বা উচিত নয়—এ নিয়ে বিবৃতি দিতে মানুষ খুঁজেছি, কিন্তু চার জনও পাওয়া যায়নি।”
তিনি আরো বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া যখন মুমূর্ষু অবস্থায় ছিলেন এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর প্রয়োজন ছিল, তখনও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। চার জনের বিবৃতি না হওয়ায় পত্রিকায় সংবাদও দেওয়া যায়নি। চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে কত মানুষকে বিনয় করেছি। অনেকের ইচ্ছা ছিল, কিন্তু সাহস করেননি।”