জাতীয়

সরকারের কাছে সাত দাবি জাতীয় হিন্দু মহাজোটের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সরকারের কাছে সাত দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনটির নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাতীয় হিন্দু মহাজোটের নির্বাহী মহাসচিব ও মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে। তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মঠ-মন্দির, বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও প্রতিমা ভাঙচুরের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “নির্বাচনে জয়-পরাজয় স্বাভাবিক রাজনৈতিক বাস্তবতা। কিন্তু কোনো দল বা প্রার্থী পরাজিত হলে হিন্দুরা ভোট দেয়নি। এই অজুহাতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা বা নির্যাতন কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটাররা যাতে ভয়ভীতি ছাড়াই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সে লক্ষ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কিছু প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

সাত দফা ১. নির্বাচনের ১০ দিন আগে থেকে ১০দিন পর পর্যন্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, মঠ ও মন্দিরে বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করা। ২. নির্বাচনকালে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা। ৩. কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে নির্বাচনি প্রচার বা সমাবেশ নিষিদ্ধ করা। ৪. নির্বাচনে ধর্মের ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা। ৫. যেসব এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে ভোট স্থগিত রেখে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ। ৬. নির্বাচন কমিশনের অধীনে সংখ্যালঘু ও নারী ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ে মনিটরিং সেল গঠন। ৭. সংখ্যালঘু ভোটাররা যাতে নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারেন সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সভাপতি ড. প্রভাস চন্দ্র রায়। এ সময় সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডিসি রায়, জগন্নাথ হালদার, যুগ্ম মহাসচিব সমীর সরকারসহ কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।