ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে এক নারীকে রাতভর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বাসের চালক আলতাফ হোসেন ও সহকারী রাব্বি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর থানা আমলী আদালতের বিচারক রুমেলিয়া সিরাজাম তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন— বাসচালক দিনাজপুরের নরদেরাই গ্রামের আব্দুর রবের ছেলে মো. আলতাফ (২৫) এবং বাসচালকের সহকারী ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চরহাট গ্রামের চুন্নু মাতব্বরের ছেলে মো. সাগর (২৪) ও হবিগঞ্জ সদর উপজেলার আব্দুল পাগা গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে মো. রাব্বি। এ মামলার অপর আসামি পলাতক।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে টাঙ্গাইল সদর থানায় বাসের চালক ও তার সহকারীসহ (হেলপার) চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাত ১১টার দিকে সাভারের রেডিও কলোনি থেকে আশুলিয়ায় যাওয়ার জন্য সাভার পরিবহনে বাসে ওঠেন এক নারী। পথে অন্য যাত্রীরা বাস থেকে নামার পর ওই নারীকে জোর করে আটকে রেখে তার সঙ্গে থাকা স্বর্ণালঙ্কার, টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে বাসটি বিভিন্ন জায়গায় চালিয়ে ওই নারীকে রাতভর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনের করটিয়া আন্ডার পাস এলাকায় মহাসড়কের ওপর সন্দেহজনক অবস্থায় দাঁড়ালে হাইওয়ে পুলিশ বাসটিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনা জানতে পারে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমীন জানিয়েছেন, মামলার পর তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নামে আরো কোনো মামলা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
টাঙ্গাইল আদালত পরিদর্শক মো. সাজ্জাদ হোসেন জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেলে তিনজনকে আদালতে তোলা হলে বাসের চালক আলতাফ হোসেন ও সহকারী রাব্বির জবানবন্দি রেকর্ডের পর বিচারক তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত বছরের ২০ মে রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে আল ইমরান পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি হয়। এ সময় নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানির ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল।