আন্তর্জাতিক

মেক্সিকো ও দক্ষিণ আমেরিকার আকাশসীমায় সতর্কতা জারি যুক্তরাষ্ট্রের

মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু দেশের ওপর দিয়ে বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে ‘সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি’ নিয়ে বিমান সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এফএএ তাদের বিজ্ঞপ্তিতে এই সতর্কতার কারণ হিসেবে সেখানে চলমান সামরিক কর্মকাণ্ড ও জিপিএস হস্তক্ষেপের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছে। 

এফএএ জানায়, তারা বিমান সংস্থাগুলোকে মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকার দেশগুলোর পাশাপাশি ইকুয়েডর, কলম্বিয়া ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের আকাশসীমার কিছু অংশে ‘সতর্কতা অবলম্বনের’ আহ্বান জানিয়ে নোটিশ জারি করেছে। সংস্থাটি বলেছে, শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জারি করা এই সতর্কতা আগামী ৬০ দিন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। বর্তমানে ওই অঞ্চলে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হামলা, কিউবার প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি এবং মেক্সিকো ও কলম্বিয়ার মাদক কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে হামলার হুমকির কারণে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

গত মাসে ভেনেজুয়েলার কাছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি ট্যাঙ্কার বিমানের সঙ্গে মাঝআকাশে সংঘর্ষ এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যাত্রীবাহী বিমানকে জরুরিভাবে পথ পরিবর্তন করতে হয়েছিল। জেটব্লু ফ্লাইট-১১১২ ক্যারিবিয়ান দেশ কিউরাসাও থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করেছিল। ভেনেজুয়েলা উপকূল থেকে প্রায় ৬৪ কিলোমিটার (৪০ মাইল) দূরে থাকা অবস্থায় এয়ারবাস বিমানটি মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি জেটের মুখোমুখি হয়, যার ট্রান্সপন্ডার (অবস্থান শনাক্তকারী যন্ত্র) সচল ছিল না।

গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হামলা এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অপহরণের পর ট্রাম্প কলম্বিয়াসহ এই অঞ্চলের অন্যান্য স্থানেও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছেন। গত সপ্তাহে ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেন, মেক্সিকো সরকার নয় বরং মাদক কার্টেলের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে এবং সেগুলো দমনে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শুরু করবে। 

ভেনেজুয়েলায় হামলার পর এফএএ পুরো ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল, যার ফলে বড় বড় বিমান সংস্থাগুলোর শত শত ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছিল।

এদিকে, মেক্সিকান সরকার মাদক কার্টেল দমন ও মার্কিন সীমান্তে অভিবাসীর ঢল কমাতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে বলে শুক্রবার জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম। মেক্সিকোর ভেতরে মাদক কার্টেলগুলোকে লক্ষ্য করে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হামলার হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।

শিনবাউম ট্রাম্পকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছেন এবং মেক্সিকো ও মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে একটি শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য কাজ করছেন। বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুয়ান রামন দে লা ফুয়েন্তে এক ফোনালাপের পর একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেন। সেখানে তারা একমত পোষণ করেন যে, ‘পারস্পরিক হুমকি মোকাবিলায় আরো অনেক কিছু করা প্রয়োজন’।

শুক্রবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে ফোনালাপের বিষয়টি উল্লেখ করে শিনবাউম বলেন, মেক্সিকো সরকার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে দেশটিতে হত্যাকাণ্ডের হার হ্রাস, সীমান্তে মার্কিন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ফেনটানিল জব্দ করার পরিমাণ কমে আসা ও অভিবাসন হ্রাস পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

প্রেসিডেন্ট শিনবাউম আবারো ওয়াশিংটনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে অস্ত্র পাচার বন্ধ করার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের ব্যাপক ব্যবহার মেক্সিকোতে কার্টেল সহিংসতা বৃদ্ধির একটি অন্যতম প্রধান কারণ।

শিনবাউম বলেন, “অপর পক্ষকেও তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাদের ওখানে যে (মাদক) ব্যবহারের সংকট রয়েছে, তা শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যগত দৃষ্টিকোণ থেকে সমাধান করতে হবে।”

গত সপ্তাহে শিনবাউম ও ট্রাম্পের মধ্যে ফোনালাপ হয়েছিল। সেসময় মেক্সিকান প্রেসিডেন্ট মার্কিন প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছিলেন যে, মেক্সিকোতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের কোনো প্রয়োজন নেই।