সারা বাংলা

বেহাল দশায় সুনামগঞ্জের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকার সড়ক

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ বাজার থেকে সীমান্ত এলাকার দিকে যাওয়ার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই চরম বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে।

পলাশ বাজার থেকে শুরু হয়ে ধনপুর বাজার ও মাছিমপুর বাজার হয়ে সড়কটি লাউড়েরগর বাজারে গিয়ে শেষ হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি পলাশ, ধনপুর ও বাদাঘাট-এই তিনটি ইউনিয়নের সীমানা জুড়ে বিস্তৃত। এই সড়কটি শুধু ওই তিন ইউনিয়নের বাসিন্দাদের যাতায়াতের জন্যই নয়, সীমান্ত সড়ক হয়ে ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার বাসিন্দাদের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

পাশাপাশি তাহিরপুর উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা যাদুকাটা নদী, শিমুল বাগান, বারেকটিলা ও নিলাদ্রি-লেকসহ টাঙ্গুয়া হাওর ও সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পর্যটন স্পটে যেতে এই পথটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির ভাঙাচোরা ও জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা, যাত্রী ও পর্যটকদের।

বিস্বম্ভরপুর উপজেলার বাসিন্দা রাব্বি আমিন বলেন, “আমাদের যে সড়ক, শিমুল বাগান, যাদুকাটা নদী, বারেকটিলা, নিলাদ্রী লেকসহ সব পর্যটন স্পটে যাওয়ার যে সড়ক ভাঙ্গা, সেই রাস্তা দিয়ে অনেক দূর থেকে মানুষ ঘুরতে আসে কিন্তু সড়ক ভাঙ্গার জন্যে সুনামগঞ্জের অনেক বদনাম হচ্ছে এবং মানুষের কষ্ট হচ্ছে। ভাঙ্গা রাস্তার জন্য যানবাহন এখন সড়কে কমে গেছে। আমরা যাতায়তের জন্য এখন গাড়িও পাই না।” 

তিনি আরো বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার থাকতে বলছিল, সড়ক হবে কিন্তু হয়নি। এখন ইউনুস সরকারেও সড়ক করেনি। সরকার আসে যায় কিন্তু আমাদের দিন পালটে না।”

স্থানীয় এলাকার রিকশা চালক ফয়েজ মিয়া বলেন, “এই সড়কে রিকশা গাড়ি চালানোর মত না। এখানে একবার রিকশা চালালে তিনদিন হাত-পা-শরীর ব্যাথা করে। ভাঙ্গা রাস্তার জন্যে এখন একটার ট্রিপ দিলে আবার খালি হয়ে ফিরতে হয়। এভাবে আমরা কীভাবে চলব? চেয়ারম্যান মেম্বাররা টাকা পয়সা এনে খেয়ে ফেলে কিন্তু আমাদের রাস্তা হয় না।”

তবে দীর্ঘদিন ধরে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি ভাঙাচোরা হলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংস্কার না হলে যোগাযোগব্যবস্থা ও পর্যটন সম্ভাবনা আরো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পলাশ বাজার এলাকার তানভীর আহমেদ বলেন, “সড়কটা অনেক দিন থেকে ভাঙ্গা, আমাদের বাড়ি যেহেতু এদিকে আমরা বাধ্য হয়েই নিয়মিত এই সড়কে বাইক চালাতে হয়। প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে সড়কে বাইক চালাচ্ছি, এবং দুর্ঘটনার মুখে পড়ছি। আমি দাবি জানাচ্ছি দ্রুত যেনো এই সড়কের কাজ হয়।”

সড়ক ভাঙা ও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এসব এলাকায় বিয়ে করতে আগ্রহ দেখান না আশপাশের এলাকার মানুষ। দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি জানান স্থানীয়রা।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মাঝাই গ্রামের বাসিন্দা হোসেন আলী বলেন, “এই সড়কের জন্যে আমরা ধান বাড়িতে তুলতে পারি না। একটা রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারি না। এই সড়ক থেকে আমাদের আগের মাটির সড়ক ভালো ছিল। পলাশ বাজার থেকে ধনপুরের ভাড়া ছিল মাত্র ১০ টাকা কিন্তু রাস্তা ভাঙ্গার জন্য ৫০ টাকা দাবি করে। নির্বাচন এলে প্রার্থীরা নানা গল্প শোনান। কেউই আমাদের সুযোগ সুবিধা করে দেয় না।”

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার বলেন, “আমরা এই সড়কের জন্য এরইমধ্যে টেন্ডার আহ্বান করেছি। তবে বিভিন্ন জটিলতার কারণে কাজটি এখনো শুরু করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করে আবারো টেন্ডার আহ্বান করা হবে। টেন্ডারের অনুমোদন পাওয়া মাত্রই দ্রুততার সঙ্গে কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”