খেলাধুলা

ছক্কার বৃষ্টিতে নবীর ছেলে ইসাখিলের সেঞ্চুরি

৫০ বলে ৫০ রান। পরের ২০ বলে আরো ৫০। হয়ে গেল ৭০ বলে ১০০ রান। নাজমুল হোসেন শান্তর পর বিপিএলে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পেলেন হাসান ইসাখিল।

প্রায় অসম্ভবকে সম্ভব করে হাসান যা করলেন তা রীতিমত চমকে উঠার মতোই। আফগানিস্তানের কিংবদন্তি মোহাম্মদ নবীর ছেলে হাসান ইসাখিল। বয়স ১৯ বছর ১৭৪ দিন। বিপিএলের এবারের আসরে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে খেলতে এসেছেন। শুরুর কয়েক ম্যাচে ছিলেন ডাগআউটে। দলের টানা ব্যর্থতায় সুযোগ মেলেনি।

হুট করেই সিলেটে আসে সুযোগ। বাবা নবীও একই দলে। বাবার থেকেই পেয়েছিলেন অভিষেক ক্যাপ। সিলেটে নিজের প্রথম অভিষেক ইনিংসে সবাইকে চমকে দিয়ে ৬০ বলে ৯২ রান করেছিলেন। অল্পের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেছিলেন। দলকে জিতিয়ে পেয়েছিলেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

রোববার ঢাকায় সেঞ্চুরির অপেক্ষা ফুরালেন ইসাখিল। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ইনিংসের শেষ দিকে ঝড় তুলে তিন অঙ্কের দেখা পেয়েছেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ইনিংস ওপেন করতে এসে আঁটসাঁট ছিল শুরুর ব্যাটিং। থিতু হতে সময় নিয়েছিলেন। প্রথম ৮ বলে তার রান ছিল কেবল ১।

তৃতীয় ওভারে নাহিদ রানাকে ছক্কা ও চার মেরে আত্মবিশ্বাস পান। এক ওভার পর ফাহিম আশরাফকে ছক্কা উড়ান মিড উইকেট দিয়ে। তবুও প্রত্যাশিত রান পাচ্ছিলেন না তিনি। ডট বলের সংখ্যা বাড়ছিল। স্ট্রাইক রোটেটে হচ্ছিল সমস্যা। তাতে ফিফটিতে পৌঁছতে ৫০ বল লেগে যায় তার।

কিন্তু মাইলফলকে পৌঁছানোর পর তাকে আর আটকানো যায়নি। পরের ২০ বলের ৭টি বাউন্ডারি উড়িয়েছেন। যার ৬টিই ছিল ছক্কা। ১টি কেবল চার। নার্ভাস নাইন্টিজে একেবারে বিচলিত হননি তিনি। ৮৮ রান থেকে আকিফ জাভেদকে ছক্কা উড়ান তিনি। পরের বল আবারও ছক্কা। প্রথমটি ছিল ডিপ পয়েন্ট দিয়ে। পরেরটি মিড উইকেটে।

সেঞ্চুরিতে পৌঁছান ২ রান নিয়ে। অনসাইডে আলতো বল ঠেলে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন। সব মিলিয়ে ৭২ বলে ৪ চার ও ১১ ছক্কায় ১০৭ রান করেন ইসাখিল। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে রংপুরের বিপক্ষে আগে ব্যাটিং করতে নেমে নোয়াখালী ২ উইকেটে ১৭৩ রান করে।

৩৬ রানে ২ উইকেট হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে নোয়াখালীর হাল ধরেন হায়দার ও ইসাখিল। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত দাপট ধরে রেখে দলকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যান তারা। ৭৪ বলে ১৩৭ রানের জুটি গড়েন দুজন। যা এবারের বিপিএলে এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি। শান্ত ও ওয়াসিমের ১৪২ রানের জুটি আছে রংপুরের বিপক্ষে। নোয়াখালীর অধিনায়ক হায়দার ৩২ বলে ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন। ৩ চার ও ১টি ছক্কা আসে তার ব্যাট থেকে।