লাক্স তারকা থেকে রুপালি পর্দা, তারপর বিশ্ব মঞ্চ ও বলিউডে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তবে তার এই চলার পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। কারণ পেশাগত নানা সংকটের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও সংগ্রামটা একাই করতে হয়েছে তাকে।
মেডিকেল কলেজে পড়াকালীন বাঁধনের প্রথম বিয়ে হয়। এ সংসার ভাঙার পর হতাশায় ডুবে গিয়েছিলেন। সবকিছু কাটিয়ে দ্বিতীয়বার ঘর বাঁধেন বাঁধন। এ সংসারও সুখের হয়নি। বরং বিচ্ছেদ-সন্তান নিয়ে দীর্ঘ পথ সংগ্রাম করে পাড়ি দিয়েছেন। কিন্তু প্রাক্তন দুই স্বামীকে ‘মহান’ বলে মন্তব্য করলেন এই অভিনেত্রী।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বাঁধন। ফলে তার সহশিল্পীদের কেউ কেউ ক্রমাগত আক্রমণ করে মন্তব্য করেই যাচ্ছেন। চব্বিশ পরবর্তী নানা অন্যায়ের প্রতিবাদে সরব হতে দেখা গেছে তাকে। সর্বশেষ ছয়ানটে হামলার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিলেন। এ নিয়েও সহশিল্পীদের আক্রমণাত্মক মন্তব্যের শিকার হয়েছেন। এসব বিষয় বাঁধনকে মানসিকভাবে বিরক্ত করে কি না তা জানতে চাওয়া হয় একটি পডকাস্টে।
আজমেরী হক বাঁধন
অনেকটা হাসি মুখে আজমেরী হক বাঁধন বলেন, “আমার মেন্টাল হেলথ এতটাই ডিস্টার্ব যে, ওদের কারণে ডিস্টার্ব হওয়ার কোনো অপশনই নাই। এজন্য পুরো ক্রেডিট আমার দুজন এক্স হাজবেন্ডের। আমার জীবনের আজকের অবস্থানের জন্য আমি ওদেরকে অনেক ক্রেডিট দিই।”
আজমেরী হক বাঁধন
ব্যাখ্যা করে আজমেরী হক বাঁধন বলেন, “ওরা দুজনে আমাকে এতটাই গেরিলা ট্রেনিং দিয়েছে যে, দুজনেই মহান থেকে মহান। উনারা আমার সঙ্গে যা করেছেন, এরপরে শুধু বাকি আছে খুন করে ফেলা। এসে শুট করে দিলো বা মেরে ফেললো, এটা ছাড়া তারা দুজনে বাকি আর কিছু রাখেন নাই।”
প্রাক্তন দুই স্বামীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আজমেরী হক বাঁধন বলেন, “সুতরাং তাদের (প্রাক্তন স্বামী) কাছে আমি কৃতজ্ঞ। কারণ তারাই আমাকে আজকের বাঁধন হতে অনেক সাহায্য করেছেন। কথাগুলো কিন্তু সার্কাজম বা তাদের ছোট করার জন্য বলছি না। আজকের বাঁধন হতে তারা আমাকে ভীষণভাবে হেল্প করেছেন।”
আজমেরী হক বাঁধন
২০১০ সালে ২০ বছরের বড় মাশরুর সিদ্দিকী সনেটকে ভালোবেসে বিয়ে করেন আজমেরী বাঁধন। এটি তার দ্বিতীয় বিয়ে। প্রায় চার বছর সংসার করার পর ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদ হয় তাদের। বাঁধন-সনেট দম্পতির একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। এরপর আর বিয়ে করনেনি এই অভিনেত্রী।