ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তরুণ কলাম লেখক ফোরামের যৌথ উদ্যোগে ৫ দিনব্যাপী শহীদ ওসমান হাদি স্মৃতি বইমেলা ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের পায়রা চত্বরে শুরু হয়েছে।
রবিবার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান প্রধান অতিথি হিসেবে এই বইমেলার উদ্বোধন করেন। অরোরা স্পেশালাইজড হসপিটাল লিমিটেডের সহযোগিতায় এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
২২টি প্রকাশনা সংস্থার স্টল নিয়ে সাজানো হয়েছে শহীদ ওসমান হাদি স্মৃতি বইমেলা। ১৮ থেকে ২২ জানুয়ারি বইমেলা চলবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বইমেলার পাশাপাশি শহীদ ওসমান হাদিকে স্মরণ করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
ডাকসু’র ভিপি সাদিক কায়েমের সভাপতিত্বে ও ঢাবি লেখক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবিদ হাসান রাফির সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অরোরা স্পেশালাইজড হসপিটাল লিমিটেডের ডা. মো. মাহফুজুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ও ইনকিলাব মঞ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহবায়ক ফাতেমা তাসনিম জুমা, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের উপদেষ্টা ও সাবেক সভাপতি আমজাদ হোসেন হৃদয়, ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, আন্তর্জাতিক সম্পাদক খান মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জোবায়ের, লেখক ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম, ঢাবি শাখার সভাপতি আশিক খানসহ সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বইমেলা আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগ সমাজের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে শক্তিশালী করে। তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদি সর্বদা ন্যায় ও মজলুমের পক্ষে এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতেন। তার হত্যাকান্ড শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, বরং একটি আদর্শকে হত্যা করার অপচেষ্টা। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে শহীদ হাদি হত্যার ন্যায়বিচার দেখতে চাই।” ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, “শহীদ ওসমান হাদি তার কাজের মাধ্যমে দেখিয়েছেন আমাদের লড়াইটা কাদের সাথে। তারা ভেবেছিল হত্যা করার মধ্য দিয়ে শহীদ ওসমান হাদির যে আদর্শ, যে প্রত্যাশা, যে আকাঙ্খা সেগুলো নিভিয়ে দিতে পারবে কিন্তু তারা সেটি পারেনি বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এক সুরে সবাই বলছে আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাব। হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। আমরা বেঁচে থাকতে তার হত্যাকারীদের বিচার করেই ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ।”
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরামের সভাপতি আশিক খান বলেন, “এই বইমেলার মূল উদ্দেশ্য হলো ওসমান হাদির জীবন, আদর্শ ও সংগ্রামকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা। চিন্তা ও পাঠের মাধ্যমে প্রতিবাদী চেতনাকে জাগ্রত করা এবং বইকে প্রতিরোধ ও মুক্তচিন্তার কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।”