বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্য এখনও পেন্ডুলামে ঝুলে আছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে দল পাঠাবে কিনা নিশ্চিত নয়। তবে ক্রিকেটাররা নিজেদের প্রস্তুত রাখছে। তাওহীদ হৃদয় সেই প্রস্তুতিতে লেটার মার্কস পাচ্ছেন নিশ্চিতভাবেই।
কিন্তু নিজের জায়গাতে কি পারছেন? জাতীয় দলে তাওহীদের ভূমিকা মিডল অর্ডারে। কিন্তু রংপুর রাইডার্সের হয়ে বিপিএলে তাওহীদ রান পেয়েছেন ওপেনিংয়ে। জাতীয় দলে যারা ওপেনিং করছেন তাদের ব্যাটে তেমন আশানুরূপ রান নেই। তাহলে কী তাওহীদ প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ওপেনিং করবেন?
রোববার তাওহীদ যেভাবে ৬৩ বলে ১০৯ রান করে রংপুর রাইডার্সকে জিতিয়েছেন তাতে জোর দাবি উঠতে পারে তাকে দিয়ে ইনিংস ওপেন করাতে। তেমন কিছুই হচ্ছে তাওহীদের কথায় ইঙ্গিত পাওয়া গেল, ‘‘দল থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমাকে ওপরে যেতে হবে। তাই এখন ওপেনিং করছি।’’
এই সিদ্ধান্তটা জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্ট নিয়েছে বাকিদের দুরাবস্থা দেখেই। টপ অর্ডারে লিটন ও তানজিদের ব্যাটে রান নেই। তানজিদ ১০ ম্যাচে করেছেন ১৮৬ রান। লিটন ১০ ম্যাচে করেছেন মাত্র ২০১ রান। নেই কোনো ফিফটি। সবচেয়ে বেশি চিন্তার কারণ সাইফ হাসানকে নিয়ে। টপ অর্ডারের আরেক ব্যাটসম্যান সাইফ নিজের ছায়া হয়ে আছেন। ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে খেলা সাইফ ৮ ম্যাচে মাত্র ৬০ রান করেছেন। ব্যাটসম্যানদের মধ্যেই পারভেজ হোসেন ইমন রানে রয়েছেন। সিলেট টাইটান্সের এই ব্যাটসম্যান ১০ ম্যাচে ৩২৯ রান করেছেন।
তাওহীদ টপ অর্ডারে আসার আগে ৬ ইনিংসে ১০৬ রান করেছিলেন। টপ অর্ডারে ফিরে ৪ ইনিংসে তার রান ২৭২। শুরুতে মিড অর্ডারেই ছিল পরিকল্পনা। সেই কথাও জানালেন তাওহীদ, অধিনায়ক লিটন শুরুতে আমাকে যেটা বলেছে যে, ‘‘তুই ওয়ার্ল্ডকাপে তো মিডলেই খেলবি। যদি সবকিছু ঠিক থাকে। চেষ্টা কর মিডলে খেললে তোর জন্য ভালো একটা অনুশীলন হবে। কারণ মিডলে খেলাটা একটু অন্যরকম খেলা। ইমপ্যাক্টফুল ইনিংসও মিডলে কাউন্ট করা হয়। আমাকে এটাই বলেছে। আমিও চেষ্টা করেছিলাম ওভাবে এবং শুরুটা মনে হয় তিন চারেই করেছিলাম। পরে দল থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমাকে ওপরে যেতে হবে। তাই এখন ওপেনিং করছি।’’
তবে শুরুতে না পেলেও বিচলিত হননি তাওহীদ, ‘‘টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটটা এমনই যে প্রতিদিন রান হবে না। প্রতিদিন কেউ রান করেও না। অন অফ অন অফ হয়। কিন্তু নিশ্চিত করতে হবে যখনই সেট হবে ইনিংসটা যেন বড় হয়।’’
নিজেকে যেকোনো জায়গায় খেলার প্রস্তুত রাখছেন তাওহীদ, ‘‘পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে সব জায়গায় খেলার অভ্যাস থাকতে হবে। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। দল থেকে যখন আমাকে এই সুযোগ দিয়েছে আমি বলেছি, কোনো সমস্যা নেই। কারণ আমি নিজে থেকেও মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম অবদান করার জন্য।’’
তবে টপ অর্ডারে যারা আছে তাদের উপর ভরসা আছে তাওহীদের, ‘‘আমাদের অনেক টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান আছে। এবং তারা শেষ এক বছর ভালো করে এসেছে। এই জায়গাটা এই মুহূর্তে, এটা আমার চিন্তাভাবনা। দল কি চিন্তা করছে জানি না। যারা আসলে এতদিন ভালো করে এসেছে তাদের উপর অবশ্যই বিশ্বাসটা রাখা উচিত। এবং আমি চাইব যে তারাই আমাদের দেশকে ভালোভাবে প্রতিনিধিত্ব করবে সামনে।’’
ওপেনিংয়ে তাওহীদ সেঞ্চুরি পেলেও মিডল অর্ডারে নিজের ইমপ্যাক্টফুল ইনিংসগুলোতে অখুশি নন, ‘‘মিডল অর্ডারের ভূমিকা আলাদা থাকে। মিডল অর্ডারে ২৫-৩০, ১৫-২০ একটা ইমপ্যাক্টফুল ইনিংস খেলে যারা মিডলে খেলে। সবথেকে ভালো লাগে যে যখন দলকে জেতানো যায়, এটাই সবচেয়ে গর্বের মুহূর্ত।’’