বিরাট কোহলি ওয়ানডে ক্রিকেটে আরেকটি সেঞ্চুরি পেলেন। কিন্তু, এবার বিজয়ের হাসি হাসতে পারলেন না। ড্যারেল মিচেল ও মাইকেল ফ্লেপস জোড়া সেঞ্চুরিতে নিউ জিল্যান্ডের রান নিয়ে গেলেন চূঁড়ায়। সেঞ্চুরিতে জবাব দিয়েছিলেন বিরাট। তীব্র লড়াইয়ে দলকে জয়ের লড়াইয়ে তিনিই রেখেছিলেন। তবে, তাকে আটকে নিউ জিল্যান্ড জিতে নেয় তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচ।
তাতে ঐতিহাসিক এক অর্জনে মিচেল-ফ্লেপসরা নিজেদেরকে জড়িয়ে নিয়েছেন। ভারতের মাটিতে এর আগে কখনো ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জেতেনি কিউইরা। তাদের দীর্ঘ ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবার ভারতের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতল নিউ জিল্যান্ড।
তিন ম্যাচ সিরিজে ১-১ এ সমতা ছিল। রোববার ইন্দোরে আগে ব্যাটিং করে ৩৩৭ রানের বিরাট পুঁজি পায় অতিথিরা। ড্যারেল মিচেল সিরিজের দ্বিতীয় ও টানা সেঞ্চুরি পেয়েছেন। ১৩১ বলে ১৫ চার ও ৩ ছক্কায় ১৩৭ রানের ইনিংস খেলেন। ফ্লেপস ৮৮ বলে ১০৬ রান করেন ৯ চার ও ৩ ছক্কায়।
জবাবে বিরাট কোহলি ওয়ানডে ক্রিকেটের ৫৪তম সেঞ্চুরি তুলে ১২৪ রান করেন ১০৮ বলে। ১০ চার ও ৩ ছক্কায় সাজান তার ইনিংসটি। নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে বিরাট আউট হলে ভারতের জয়ের সব আশা শেষ হয়ে যায়। ২৯৬ রানে থেমে যায় স্বাগতিকরা।
৪১ রানের জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় নিউ জিল্যান্ড। সেঞ্চুরিতে ম্যাচ সেরা হয়েছেন মিচেল। ৩৫২ রান তুলে তার হাতেই উঠে সিরিজ সেরার পুরস্কার।
নিউ জিল্যান্ডের হয়ে মিচেল ও ফ্লেপস বাদে রান পেয়েছেন উইল ইয়ং ও মিচেল ব্রেসওয়েল। ইয়ং ৩০ ও ব্রেসওয়েল ২৮ রানে অপরাজিত থাকেন। চতুর্থ উইকেটে মিচেল ও ফ্লেপস ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। ১৮৮ বলে ২১৯ রানের জুটি গড়েন দুজন। তাতেই স্কোরবোর্ডে যোগ হয়ে যায় তিনশতাধিক রান।
ভারতের বোলাররা খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। ৩টি করে উইকেট নেন দুই পেসার আর্শদ্বীপ ও হার্শিত রানা। তবে তারা ছিলেন ব্যয়বহুল। সিরাজ ও কুলদ্বীপ নেন ১টি করে উইকেট।
লক্ষ্য তাড়ায় ভারতের টপ ও মিডল অর্ডারে বিরাট বাদে কেউ জ্বলে উঠতে পারেননি। ৭১ রান তুলতে ৪ উইকেট হারায় তারা। সেখান থেকে নীতিশ কুমারকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে বিরাট যোগ করেন ৮৮ রান। নিতিশ ৫৩ রানে হাল ছেড়ে দিলে বিরাটের ওপর বড় দায়িত্ব চলে আসে। সেখান থেকে সপ্তম উইকেটে হার্শিত রানা তাকে সঙ্গ দেন। ডানহাতি ব্যাটসম্যানের সঙ্গে ৬৯ বলে ৯৯ রানের জুটি গড়েন। এ সময়ে বিরাট তুলে নেন সেঞ্চুরি। হার্শিত ফিফটি তুলে ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৫২ রানে থেমে যান তিনি। পরের লড়াইটা ছিল বিরাটের একার। দলের রান যখন ২৭ বলে ৪৬ রান লাগত তখন তিনি আউট হন। ৩ ছক্কা ও ১০ চারে ১০৮ বলে ১২৪ রান করে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়েন ভারতের সুপারস্টার।
তার আউটেই অবিস্মরণীয় সিরিজ জয়ের উদযাপনে মাতে কিউইরা। বাকিটুকু তো স্রেফ আনুষ্ঠানিকতা। বোলিংয়ে কিউইদের হয়ে জ্যাক ফলকস ও ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক ৩টি করে উইকেট নেন।
ওয়ানডে সিরিজ শেষে দুই দল এখন টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে। পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হবে আগামী বুধবার নাগপুরে।