জাতীয়

সন্ধ‌্যায় জানা যা‌বে প‌বিত্র শবে বরাত ক‌বে 

১৪৪৭ হিজ‌রির ২৯ রজব আজ। আকা‌শে আজকে চাঁদ দেখা গে‌লে কাল থে‌কে গনণা শুরু হ‌বে প‌বিত্র শাবান মা‌সের। আর না হ‌লে রজব মা‌স পূর্ণ হ‌বে। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর কর‌ছে সব‌কিছু। আরবী শাবান মা‌সের বেশ ফ‌জি‌লত র‌য়ে‌ছে। এই মা‌সের মধ‌্যদি‌য়ে প‌বিত্র রমজান মা‌সের আগমনী বার্তা শু‌রু হ‌য়ে যায়।  এই মা‌সের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত ধর্মপ্রাণ মুসলমান‌দের জন‌্য র‌য়ে‌ছে এক ম‌হিমা‌ন্বিত রজ‌নি।  যা ‘শবে বরাত’ কিংবা লাইতুল বারাআত না‌মে প‌রি‌চিত। মহান আল্লাহ‌কে কা‌ছে পাওয়ার ম‌হিমা‌ন্বিত ভাগ‌্য রজ‌নি হি‌সে‌বে খ‌্যাত এটি। 

প‌বিত্র শ‌বে বরাত ক‌বে হবে তা জানা যা‌বে আজ সন্ধ‌্যায়। শাবান মা‌সের চাঁদ দেখা এবং দিনক্ষণ পর্যা‌লোচনায় বৈঠক ডে‌কে‌ছে জাতীয় চাঁদ দেখা ক‌মি‌টি। 

ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেনের সভাপতিত্বে সোমবার সন্ধ‌্যায় ইসলা‌মিক ফাউ‌ন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাক‌ক্ষে অনু‌ষ্ঠিত হ‌বে এই বৈঠক।

দেশের আকাশে কোথাও শাবান মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা ০২-৪১০৫৩২৯৪, ০২-২২৬৬৪০৫১০ ও ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ টেলিফোন নম্বরে বা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানোর অনুরোধ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

র‌বিবার (১৮ জানুয়ারি) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

সোমবার শাবান মাসের চাঁদ দেখা গেলে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) থেকে শাবান মাস গণনা শুরু হবে, শবেবরাত পালিত হবে ২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে। চাঁদ দেখা না গেলে মঙ্গলবার রজব মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে, শাবান মাস শুরু হবে বুধবার (২১ জানুয়ারি)। এক্ষেত্রে ৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে শবেবরাত পালিত হবে।

শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতকে ‘শবে বরাত’ বলা হয়। শবে বরাত কথাটি ফারসি থেকে এসেছে। ‘শব’ মানে রাত, ‘বরাত’ মানে মুক্তি। শবে বরাত অর্থ মুক্তির রাত। শবে বরাতের আরবি হলো ‘লাইলাতুল বারাআত’। হাদিস শরিফে যাকে ‘নিসফ শাবান’ বা ‘শাবান মাসের মধ্য দিবসের রজনী’ বলা হয়েছে। ভারতীয় উপমহাদেশ, পারস্যসহ পৃথিবীর অনেক দেশের ফারসি, উর্দু, বাংলা, হিন্দিসহ নানা ভাষায় যা ‘শবে বরাত’ নামেই অধিক পরিচিত।

কোরআনুল কারিমে এসেছে, ‘হা-মিম! শপথ! উজ্জ্বল কিতাবের, নিশ্চয়ই আমি তা নাজিল করেছি এক বরকতময় রাতে; নিশ্চয়ই আমি ছিলাম সতর্ককারী। যাতে সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারিত হয়। এ নির্দেশ আমার তরফ থেকে, নিশ্চয়ই আমিই দূত পাঠিয়ে থাকি।’ (সুরা-৪৪ দুখান, আয়াত: ১-৫)। মুফাসসিরিনগণ বলেন: এখানে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’ বা বরকতময় রজনী বলে শাবান মাসে পূর্ণিমা রাতকেই বোঝানো হয়েছে। (তাফসিরে মাজহারি, রুহুল মাআনি ও রুহুল বায়ান)। হজরত ইকরিমা (রা.) প্রমুখ কয়েকজন তাফসিরবিদ থেকে বর্ণিত আছে, সুরা দুখান–এর দ্বিতীয় আয়াতে বরকতের রাত বলে শবে বরাতকে বোঝানো হয়েছে। (মাআরিফুল কোরআন)।

নবীজি (সা.) বললেন, “এটা হলো অর্ধ শাবানের রাত। এ রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি মনোযোগ দেন, ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করে দেন, অনুগ্রহপ্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন। আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের তাদের অবস্থাতেই ছেড়ে দেন।”

হাদিস শরিফে আছে, হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা অর্ধশাবানের রাতে মাখলুকাতের দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া আর সবাইকে ক্ষমা করে দেন।’ (ইবনে হিব্বান: ৫৬৬৫, ইবনে মাজাহ: ১৩৯০, রাজিন: ২০৪৮; ইবনে খুজাইমা, কিতাবুত তাওহিদ, পৃষ্ঠা: ১৩৬, মুসনাদে আহমদ, চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৭৬)।