সাইফ হাসানকে বিপিএলে নিজেদের দলে পেতে আঁটঘাঁট বেধে নেমেছিল ঢাকা ক্যাপিটালস। সরাসরি সাইনে তাকে পেয়েও যায় ঢাকা। কিন্তু পুরো আসরে সাইফ ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে।
গতকাল রোববার শেষ ম্যাচে ৪৪ বলে ৭৩ রানের ইনিংসের আগে আট ম্যাচে তার ছিল কেবল ৬০। তার অভাব প্রচন্ডভাবে অনুভব করেছে ঢাকা। কিন্তু জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটারের থেকে কেন প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স পায়নি ঢাকা?
সাইফ টুর্নামেন্টের শেষ দিনে প্রথমবার এসেছিলেন সংবাদ সম্মেলনে। নিজের অফফর্ম, মাঠের বাইরে ইস্যু নিয়ে প্রথমবার কথা বললেন গণমাধ্যমে। মারকুটে এই টপ অর্ডার জানিয়েছে, মাঠের বাইরের ইস্যুতে প্রচন্ডভাবে আঘাত পেয়েছিলেন তিনি। সেই ধাক্কা সামলানোর মনোবল তার ছিল না। টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে এ নিয়ে অফিসিয়ালি বিসিবিকে জানিয়েছিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি।
বিপিএলে দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিয়ে এবার বেশ সতর্ক ছিল বিসিবি। বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগের কাছে দুই-তিনটি দল ও বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের হেনস্থা বা হয়রানির নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। ঢাকা ক্যাপিটালস তাদের মধ্যে অন্যতম।
এই দলের ওপেনার সাইফ হাসান ও রহমানউল্লাহ গুরবাজের রুমে হুট করে ঢুকে মোবাইল ফোন জব্দ করে নেয় দুর্নীতি বিভাগ। সাইফের অভিযোগ আরো গুরুতর, ব্যাটিংয়ে নামার আগে ড্রেসিংরুমে তার সঙ্গে কথা বলতে যায় দুর্নীতি বিভাগের কর্মকর্তা। মাঠে নামার আগে তার ফুরফুরে থাকার কথা। সেখানে ম্যাচ গড়াপেটা কিংবা বাইরের ইস্যু নিয়ে কথা বলায় প্রচন্ডভাবে ঘাবড়ে যান তিনি। তাতে পারফরম্যান্স আর বের হয়নি। টুর্নামেন্টের শেষে এসে শোনলেন সেই অভিজ্ঞতা।
“প্রথম দুই-তিন ম্যাচে যখন ক্লিক করিনি, ওদের (দুর্নীতি দমন কর্মকর্তারা) কাছে লেগেছে যে, আমার পারফরম্যান্সটা মিলছে হচ্ছে না গত বছরের সঙ্গে, মানে গত বছর যেভাবে খেলেছি। ওদের কাছে জিনিসটা স্বাভাবিক লাগেনি। ওরা এসে হুট করে চার্জ করছে। এটা আমার ভালো লাগেনি। ডিস্টার্বড হয়েছি।”
“কারণ আমি এটার জন্য ক্রিকেট খেলি না। আমি আমার প্যাশন নিয়ে ক্রিকেট খেলি। আমার পারিবারের ব্যাকগ্রাউন্ডও ওরকম না। এই জিনিসটা নিয়ে আমি অনেক বিরক্ত হয়েছি অবশ্যই। তবে ম্যানেজমেন্টকে ধন্যবাদ ওরা মানে সবসময় আমাকে সমর্থন দিয়ে গেছে।” – যোগ করেন তিনি।
ড্রেসিংরুমের ঘটনাও পরিস্কার করেন তিনি, ‘‘ব্যাটিংয়ে নামার আগে জিজ্ঞেস করেনি। তবে তখন আমাদের ড্রেসিংরুমে এসেছিল। ড্রেসিংরুমে এসে জিজ্ঞেস করছে, ব্যাটিংয়ে নামছো নাকি বা এরকম। ব্যাটিংয়ে নামার আগে ড্রেসিংরুমে ছিলাম। তখন এসেছিল, আর তার আগের দিন রুমে এসেছিল।”
“অবশ্যই বিস্ময়কর এই ব্যাপারটা। আমি বিশ্রাম নেব, তখন হুট করে এসেছে। (রাহমানউল্লাহ) গুরবাজ তো ঘুমাচ্ছিল, তখন এসেছে। আগে থেকে তো জানাবে! হুট করে আসা মানে… এটা তো অনেক অসম্মানজনক।”
দুর্নীতি বিভাগের কর্মকর্তারা ম্যাচের আগে-পরে ক্রিকেটারদের জেরা করতে পারে। তদন্তে ডাকতে পারে। কিন্তু ম্যাচের মধ্যে এমন কিছু করতে পারার কথা না। আগে কখনো হয়েছে বলেও শোনা যায়নি।
সাইফকে জেরার পর কোনো কিছু না পেয়ে পরে দফায় দফায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন কর্মকর্তারা,“তারা দুঃখিত বলছে। রুমে এলো, আসার পর কথা বলল, যখন কিছু পায়নি, তখন ‘সরি’ বলে চলে গেল। তারপরের কয়েকদিন বারবার দুঃখিত বলেছে।”