খেলাধুলা

আইসিসি সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ দেয়নি, দাবি বিসিবির

২১ জানুয়ারি বাংলাদেশের বিশ্বকাপের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে নাকি তা চূড়ান্ত হবে সেদিনই। ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো আইসিসির বরাত দিয়ে এই খবর প্রকাশ করেছে।

তারা জানিয়েছে, ঢাকায় শনিবারের বৈঠকে এই সময়সীমাই আইসিসির পক্ষ থেকে বেঁধে দেওয়া হয়েছিল বিসিবিকে। যদিও বিসিবি যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল, সেখানে সময়সীমা নিয়ে কোনো কিছু উল্লেখ করা হয়নি। এবার বিসিবি সরাসরি গণমাধ্যমে জানাল, এমন কিছু আইসিসি ও বিসিবি সভায় আলোচনা হয়নি।

সোমবার মিরপুরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিসিবি পরিচালক আমজাদ হোসেন বলেছেন, “গত শনিবার আইসিসির একজন প্রতিনিধি আসেন, তার সঙ্গে আমাদের একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়। বিশ্বকাপে আমাদের অংশগ্রহণের জন্য ভেন্যুর ব্যাপারে তথ্য আমরা জানিয়ে দেই যে, এই ভেন্যুতে (ভারত) খেলতে আমরা অপারগ এবং বিকল্প ভেন্যুর জন্য আমরা অনুরোধ করি। তাদের প্রতিনিধির সঙ্গে আমাদের বিস্তারিত আলোচনা হয়।”

“উনারা তখন বলেন যে, এই ব্যাপারগুলি তারা আইসিসিকে অবহিত করবেন এবং পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত আমাদেরকে জানিয়ে দেবেন। এ ব্যাপারে উনারা সুনির্দিষ্ট তারিখ বা কবে নাগাদ জানাবেন, কিছুই বলেননি। শুধুমাত্র জানিয়েছেন, পরবর্তী তারিখটি কবে হবে, আমাদেরকে জানিয়ে দেব।” – যোগ করেন তিনি।

আইসিসির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ শনিবার ঢাকায় বিসিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন। ওই বৈঠকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছিলেন বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার ইভেন্টস অ্যান্ড কর্পোরেট কমিউনিকেশনসের জেনারেল ম্যানেজার গৌরব সাক্সেনাও।

এর আগেও ভার্চুয়ালি একটি সভা হয়েছিল দুই পক্ষের। কিন্তু কোনো আলোচনাতেই সিদ্ধান্ত আসেনি। বিসিবি নিজেদের অবস্থানে অনড়, দল ভারতের খেলতে পাঠাবে না। আইসিসিও আরেক দফায় জানিয়ে দেয়, সূচিতে কোনো পরিবর্তন তারা আনবে না। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কি আসবে তা অনেকটাই অনুমেয়।

আইসিসি যদি ভেন্যু পরিবর্তন না করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে জানিয়ে দেয় তাহলে বাংলাদেশ দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তে স্থির থাকবে। সেক্ষেত্রে আইসিসি বিকল্প দল তৈরি রেখেছে বলে খবর দিয়েছে ইএসপিএন ক্রিকইনফো। র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী, সেই দলটি হবে স্কটল্যান্ড।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেটের সম্পর্কে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। মোস্তাফিজুরকে বাদ দেওয়ার ঘটনার জেরে বাংলাদেশ নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যেতে রাজী নয়। সরকার থেকে আসে এই সিদ্ধান্ত। দাবি উঠে, যেখানে একজন ক্রিকেটারের নিরাপত্তা দিতে পারবে না ভারত, সেখানে পুরো ক্রিকেট দলকে নিরাপত্তা দেবে?

আইসিসিকে চিঠি দিয়ে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ করে বিসিবি। আইসিসি পাল্টা চিঠিতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা চাহিদা কী তা জানতে চায়। পরের চিঠিতে বিসিবি ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের পাশাপাশি ভারত থেকে পাওয়া হুমকির কিছু ভিডিও ফুটেজ এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের লিংকও আইসিসিকে পাঠায়।

বাংলাদেশের ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত কী অপেক্ষা করছে তা সময় বলে দেবে। তবে সামনাসামনি আলোচনায় যেভাবে কথা এগিয়েছে তাতে খুব বেশি আশা করার উপায় নেই। কেননা আইসিসি বাংলাদেশকে নিজেদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে-ই দিয়েছে। এখন কেবল আনুষ্ঠানিকতা বাকি।